খাদেমুল বাবুল, জামালপুর : জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের টাকা বিতরণে সুবিধাভোগীর তালিকায় বিএনপি নেতা, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গরিব-দুস্থদের নামের তালিকায় ধনাঢ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জনমনে নানা অসন্তুষ্টির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো কোনো এলাকায় এখনো টাকা বিতরণ না করার কথাও শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে যথাযথ নিয়মেই টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের অনুকূলে তাঁর নির্বাচনী এলাকা জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে।
এর মধ্যে বকশীগঞ্জ পৌর এলাকায় এক লাখ টাকা এবং ৫০ হাজার টাকা হারে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।
নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের ওই টাকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, কিডনি রোগ, হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার, অসচ্ছল রোগী, নদীভাঙন, টর্নেডো বা অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হওয়া পরিবার, অসচ্ছল শিক্ষার্থী, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং চরম অর্থকষ্টে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের টাকা পাওয়ার কথা।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পক্ষে ইউএনওর কার্যালয় থেকে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা টাকা উত্তোলন করেন। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতারা সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে টাকা বিতরণ করেন। এতে বিএনপি নেতা, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নাম অন্তর্ভুক্তসহ টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকেরা টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন।
গত ২৬ মে উপজেলার নীলাখিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোমতাজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজির যৌথ স্বাক্ষরিত ইউনিয়নের ১০ জন সুবিধাভোগীর নামের তালিকা তৈরি করে মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা হারে বিতরণ করা হয়।
তালিকার ৩ নম্বর ক্রমিকে রয়েছেন মানিক চৌধুরী। তিনি ইউনিয়ন কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আছেন। এ ছাড়া তিনি কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
তালিকার ৭ নম্বর ক্রমিকে রয়েছেন ইউনিয়নের বিনোদেরচর গ্রামের মৃত শুক্কর মিয়ার ছেলে মো. মামুন। তালিকায় তাঁর মোবাইল নম্বরের স্থলে লেখা হয়েছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্সের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর।
নীলাখিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মমতাজুর রহমান মমতাজ বলেন, 'সুবিধাভোগীর তালিকায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর লেখার বিষয়টি মুদ্রণজনিত ভুল। আমরা এ ঘটনার জন্য দুঃখিত। নিয়ম অনুযায়ী টাকা বিতরণ করা হয়েছে।'
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছে। এটা দলের জন্য ক্ষতিকর। আমরা গরিবের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার রাজনীতির অবসান চাই।'
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, 'সুবিধাভোগীর তালিকায় আমার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ভুলবশত লেখা হয়েছে। টাকা বিতরণ শেষ হয়েছে। এতে অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি।'
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছিল। ঈদের আগেই ওইসব টাকা সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাইনি।'
রিপোর্টার্স২৪/এসএন