| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিশ্বকাপের জন্য কোরিয়ান গোলরক্ষকের বড় ত্যাগ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১০, ২০২৬ ইং | ১৩:১০:৩৭:অপরাহ্ন  |  ৬১৬৪ বার পঠিত
বিশ্বকাপের জন্য কোরিয়ান গোলরক্ষকের বড় ত্যাগ

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াই-ই নয়, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কেড়ে নিচ্ছে বড় ব্যক্তিগত আত্মত্যাগও। এর মধ্যে অন্যতম এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্পে দলের সঙ্গে ব্যস্ত থাকায় নিজের প্রথম কন্যাসন্তানের জন্মের মুহূর্তে স্ত্রীর পাশে থাকতে পারেননি তিনি।

৩৬ বছর বয়সী এফসি টোকিওর এই গোলরক্ষক জানান, গত ৪ তারিখে যখন তার স্ত্রী, মডেল কিম জিন-কিয়ুং কন্যাসন্তানের জন্ম দেন, তখন তিনি জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলনে মগ্ন ছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়া দল মেক্সিকোতে তাদের মূল বেস ক্যাম্পে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্প করছিল। আর এই ভৌগোলিক দূরত্বের কারণেই স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য তৎক্ষণাৎ দেশে ফিরে যাওয়া কিমের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভেতরের আবেগ ও দুঃখ প্রকাশ করে কিম বলেন, ‘আমার মেয়ে যখন পৃথিবীতে আসে, তখন আমি তার পাশে থাকতে পারিনি। আমার স্ত্রী এবং মেয়ের জন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছে এবং আমি তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’

এই মানসিক কষ্ট এবং হতাশার মাঝেও কিম আশা করছেন, এই অনুপস্থিতিকে তিনি বিশ্বকাপে ভালো করার অতিরিক্ত অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগাবেন। দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই মাঠে ভালো একটি ফলাফল নিয়ে দেশে ফিরব, যেন এই বিশ্বকাপটি আমাদের মেয়ের জন্য জীবনের সেরা উপহার হতে পারে।’

একটু হালকা মেজাজে নিজের সদ্যজাত কন্যার চেহারা নিয়ে রসিকতা করতেও ছাড়েননি এই কোরিয়ান তারকা। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘মনের গভীর থেকে আশা করেছিলাম মেয়েটা যেন দেখতে পুরোপুরি আমার মতো না হয়। ভাগ্য ভালো, সে আমাদের দুজনের চেহারারই একটু একটু অংশ পেয়েছে। আমার মনে হয় এ যাত্রায় আমরা বেঁচে গেছি।’

এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের জন্য এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াটা আবেগের দিক থেকে আরও বেশি স্পেশাল, কারণ তাকে ক্যারিয়ারের একটি অন্ধকার সময় পার করে আসতে হয়েছে। ২০২৪ সালের এশিয়ান কাপ চলাকালীন কিম তার হাঁটুর গুরুতর ইনজুরিতে পড়েন। ওই ইনজুরি শুধু তাকে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দেয়নি, বরং তার ফুটবল ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।

সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে কিম বলেন, ‘একটা সময় আমি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছিলাম যে আমি আদেও কোনোদিন আর ফুটবল খেলতে পারব কি না। এক বছর আগেও আমি কল্পনা করতে পারিনি যে আমি আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি নেব।’

ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করে আসার পর এই টুর্নামেন্টকে ঈশ্বরের এক বিশেষ উপহার হিসেবে দেখছেন তিনি। নিজের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে কিম বলেন, ‘আমার আগের তিনটি বিশ্বকাপের চেয়েও এবার আরও ভালো ফলাফল নিয়ে আমি শেষ করতে চাই। আমি এই টুর্নামেন্টকে এমনভাবে খেলছি, যেন এটিই সত্যিই আমার জীবনের শেষ বিশ্বকাপ।’

আগামী ১২ জুন চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ আসর শুরু হবে দক্ষিণ কোরিয়ার। এ-গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হলো মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪