কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান সেকুল আধুনিক পদ্ধতিতে আঙুর চাষ করে এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে শুরু করা তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কৃষিকাজের বাইরে নতুন কিছু করার চিন্তা থেকে আঙুর চাষে মনোনিবেশ করেন কামরুজ্জামান সেকুল। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের পর তিনি নিজ এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে আঙুরের বাগান গড়ে তোলেন। তার যত্ন ও পরিশ্রমে বাগানে ফলন আসতে শুরু করেছে, যা দেখে আশাবাদী স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুমিল্লা অঞ্চলে আঙুর চাষ আগে কখনো দেখা যায়নি। কামরুজ্জামানের এই উদ্যোগ সফল হলে অনেক কৃষকই প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ফল চাষে আগ্রহী হবেন। তারা তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা প্রদানেরও দাবি জানিয়েছেন।
উদ্যোক্তা মো. কামরুজ্জামান সেকুল বলেন, কৃষিতে নতুনত্ব আনতেই তিনি আঙুর চাষ শুরু করেছেন। প্রথমদিকে অনেকেই বিষয়টিকে অসম্ভব মনে করলেও প্রশিক্ষণ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি চান, তার এই উদ্যোগ দেখে অন্য তরুণরাও কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণে উৎসাহিত হোক।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা। ভবিষ্যতে বাগানের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা কামনা করেন। তার মতে, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আঙুর চাষের পাশাপাশি অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফলের চাষেও উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে, যা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, কুমিল্লার মাটি অত্যন্ত উর্বর ও ফলচাষের জন্য উপযোগী। জেলার উঁচু অঞ্চলগুলো আঙুর চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। তারা শুরু থেকেই উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ সফল হলে আঙুর চাষসহ উচ্চমূল্যের ফল উৎপাদনে কুমিল্লা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন