বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার সদর উপজেলায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন কথিত ‘কালু বাহিনীর’ প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালু। এ সময় তাওহীদ নামে তার এক সহযোগী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চামিলী বাজার এলাকায় প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত হন ইব্রাহিম হোসেন কালু।
আহত গোলাম মোস্তফা বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। তাকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বদরখালী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে ইব্রাহিম হোসেন কালুর নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়।
শুক্রবার বিকেলে কালুসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে গোলাম মোস্তফার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ইব্রাহিম হোসেন কালু ও তার সহযোগী তাওহীদকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম হোসেন কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত তাওহীদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, ইব্রাহিম হোসেন কালুকে গত ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং একটি ডাকাতি মামলায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। চার দিন আগে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী কালু ও তার সহযোগীকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কালুকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি জানান, নিহত কালুর বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩ থেকে ১৪টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।