| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা বাতিল, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৯, ২০২৬ ইং | ১৩:৫০:৩৫:অপরাহ্ন  |  ১৪৪৮ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা বাতিল, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি রয়টার্স

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে শুক্রবার অনুষ্ঠেয় আলোচনা আর হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সুইস কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও দেশটিতে সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, এই আলোচনা আয়োজনের প্রক্রিয়া কখনোই সহজ বা পূর্বানুমানযোগ্য ছিল না। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেই ভ্যান্স ও মার্কিন প্রতিনিধিদল রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন বলেও তিনি জানান।

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে আল্পসের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে নির্ধারিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে না। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, বুধবারের ১৪ দফা চুক্তির মাধ্যমে অন্তত ৬০ দিনের জন্য নাজুক যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পর তারা কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত।

তবে ইরানের আলোচকরা প্রথমে অন্তর্বর্তী চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ দেখতে চান। ফলে তাদের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাবে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করে, কারণ দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধে অন্তত ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এতে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল

শান্তি আলোচনার বাইরে থাকা ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এতে চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা যুদ্ধ শেষ করতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানের কাছে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন।ট্রাম্প শুরুতে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া যুদ্ধের সমাপ্তি হবে না।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল, কয়েক দশক ধরে জব্দ থাকা কয়েকশ’ কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং তেল রপ্তানিতে তাৎক্ষণিক ছাড় দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, ট্রাম্প “হতাশা থেকেই” এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামনে যে আলোচনা হবে, তা সহজ হবে না।তিনি বলেন, “মার্কিন পক্ষ যদি অতিরিক্ত দাবি করতে চায়, তাহলে আমরা তা মেনে নেব না।”

চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আলোচকদের হাতে ৬০ দিন সময় থাকবে, যদি না উভয় পক্ষ সময় বাড়াতে সম্মত হয়। একই সঙ্গে ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

ভ্যান্স জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়।

যুদ্ধের ব্যয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ কংগ্রেসকে জানিয়েছে, যুদ্ধসংক্রান্ত ব্যয় এবং অন্যান্য কিছু খাতের জন্য অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।

প্রায় চার মাস আগে যুদ্ধ শুরু করার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই তার লক্ষ্য, যাতে দেশটি কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার সক্ষমতা কমানো, ইসরায়েলবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা এবং ইরানের জনগণের মাধ্যমে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতনের পথ সুগম করাও ছিল তার লক্ষ্য।

কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের সময় পর্যন্ত এসব লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বরং ইরান আবারও তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করছে না—যদিও একের পর এক মার্কিন প্রশাসন এ দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এসেছে।

চুক্তির আওতায় ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের ‘ডাউন-ব্লেন্ডিং’ বা নিম্নমাত্রায় রূপান্তরে সম্মত হয়েছে এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শনও মেনে নিয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের চাওয়া অনুযায়ী এই উপাদান দেশ থেকে সরিয়ে নিতে রাজি হয়নি তেহরান।

মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়েও শক্তিশালী একটি নতুন পারমাণবিক সমঝোতা সম্ভব। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

তবে সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণ মোকাবিলা করে, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করে এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞায় গুরুত্বপূর্ণ ছাড় আদায় করে ইরান এখন আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে তারা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে এবং যুদ্ধ শুরুর আগে না থাকা নতুন সেবা ফি জাহাজগুলোর কাছ থেকে আদায় করবে, যদিও ৬০ দিনের আলোচনাকালে তা কার্যকর করা হবে না।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে আবার তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলায় শুক্রবার অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। ইসরায়েলের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর অবস্থান।

এতে ট্রাম্প তার যুদ্ধকালীন মিত্র ইসরায়েলকে লেবাননে অভিযান বন্ধে কতটা চাপ প্রয়োগ করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

যদিও চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধের “স্থায়ী সমাপ্তি”র কথা বলা হয়েছে, ইসরায়েল জানিয়েছে তারা সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা করছে না। বরং নতুন মানচিত্রে সম্প্রসারিত দখল অঞ্চল দেখানো হয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের অন্যতম বড় মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্স


রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪