| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাংলাদেশে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের পক্ষে চীন: শি জিনপিং

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৬, ২০২৬ ইং | ১৯:১৮:৪৮:অপরাহ্ন  |  ৯০২ বার পঠিত
বাংলাদেশে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের পক্ষে চীন: শি জিনপিং

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ও চীন নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায় গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এ ঘোষণা দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, চীন সবসময়ই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ নীতিতে অবিচল রয়েছে।

বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা থেকে চীন সরে আসবে না। বাংলাদেশকে চীন সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের পক্ষে রয়েছে। একইসঙ্গে শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি, কৌশলগত সংলাপ জোরদার এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা আরও গভীর করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং।

শি জিনপিং আরও বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে চীন সমর্থন অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিতা বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয়, অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সুশৃঙ্খল সহযোগিতা এবং সবুজ ও নিম্ন-কার্বন উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় চীন।

তিনি স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিনিময় বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের (সিএমবিসি) উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করে শি জিনপিং বলেন, উভয় দেশ সমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করবে। একইসঙ্গে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ এবং দুই দেশের বৈধ অধিকার রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকীতে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, চীন একটি মহান দেশ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন সম্প্রদায়ে উন্নীত করায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন অসাধারণ উন্নয়ন অর্জন করেছে এবং চীনা আধুনিকায়ন বাংলাদেশের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল। বাংলাদেশ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিআরআই সহযোগিতা জোরদার এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংযোগ, কৃষি, প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চায়।

তারেক রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে এক চীন নীতি অনুসরণ করে, তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে। একইসঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের কর্তৃত্বকে সমর্থন করে।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ সম্প্রদায় গঠন এবং চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ এসব উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন জানায় এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪