| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত, লুকিয়ে থাকা শুক্রাণু শনাক্ত করছে এআই

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৭, ২০২৬ ইং | ১৩:২০:৫৮:অপরাহ্ন  |  ৩৯৬ বার পঠিত
বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত, লুকিয়ে থাকা শুক্রাণু শনাক্ত করছে এআই
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: বন্ধ্যত্ব সমস্যায় ভোগা অনেক পুরুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) একটি আধুনিক প্রযুক্তি। যেসব পুরুষকে এতদিন বলা হতো তাদের শরীরে কোনো শুক্রাণু নেই, তাদের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও খুঁজে পাওয়া কঠিন শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে এই প্রযুক্তি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাসরত এক দম্পতি দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হচ্ছিলেন না। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, স্বামীর ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম নামের একটি জিনগত সমস্যা রয়েছে। এই অবস্থায় অনেক পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা অত্যন্ত কম থাকে অথবা একেবারেই পাওয়া যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া।

গবেষণা অনুযায়ী, পুরুষজনিত বন্ধ্যত্ব সমস্যায় আক্রান্তদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অ্যাজোস্পার্মিয়ায় ভোগেন। এর মধ্যে অনেকের ক্ষেত্রে ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোমের মতো জিনগত কারণ দায়ী থাকে। এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা জন্মগতভাবে অতিরিক্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম নিয়ে জন্মান, যা অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত শনাক্ত হয় না। ফলে তাদের প্রজনন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন ‘স্পার্ম ট্র্যাকিং অ্যান্ড রিকভারি’ বা স্টার (STAR) নামে একটি প্রযুক্তি। বিশেষভাবে অ্যাজোস্পার্মিয়ায় আক্রান্ত পুরুষদের নমুনায় লুকিয়ে থাকা অত্যন্ত অল্প সংখ্যক শুক্রাণু শনাক্ত ও সংগ্রহের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।

স্টার প্রযুক্তিতে উন্নত ইমেজিং সিস্টেম, মাইক্রোচিপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ব্যবহার করা হয়। নমুনার হাজার হাজার ছবি কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিশ্লেষণ করে এআই সম্ভাব্য শুক্রাণু শনাক্ত করে। এরপর রোবোটিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করা হয়।

গবেষকদের মতে, মানুষের চোখে যেসব শুক্রাণু খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব, এআই প্রযুক্তি সেগুলো দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। নমুনা বিশেষ চ্যানেলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রতিটি অংশ ক্যামেরার মাধ্যমে স্ক্যান করা হয় এবং এআই অ্যালগরিদম তাৎক্ষণিকভাবে শুক্রাণু চিহ্নিত করে।

এই প্রযুক্তির সাহায্যে শনাক্ত ও সংগ্রহ করা শুক্রাণু ব্যবহার করে ইতোমধ্যে সফল গর্ভধারণের ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও মানসিক চাপের পর সংশ্লিষ্ট দম্পতির জীবনে এসেছে নতুন আশা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিটি নিঃসন্দেহে প্রজনন চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইভিত্তিক এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পুরুষজনিত বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের ফলাফল পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। সংগৃহীত

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪