| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মারধর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার সংবাদ সম্মেলন

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ৩০, ২০২৬ ইং | ১৬:২৫:১৩:অপরাহ্ন  |  ৬২৩ বার পঠিত
ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মারধর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার সংবাদ সম্মেলন

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলায় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নেতা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জিসানুর রহমান যদুনাথপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

জিসানুর সদর উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে এবং তিনি বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। অন্যদিকে সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে জিসানুর রহমান আরও অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের কৃষকশ্রেণির লোকজন নিয়েই আমাদের ওঠাবসা। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা অফিসে কাজে যেতে হয়। সে সুবাদে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান সাহেবের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সুবাদে প্রদর্শনী দেওয়ার আশ্বাসে আমাকে চারটা আবেদন করতে বলেন। পরে বাঁশগ্রাম, শেখহাটি, মুলিয়া ও তুলারামপুর ইউনিয়নের মোট চারটি আবেদন করি। প্রদর্শনীগুলোর বরাদ্দে বিভিন্ন খরচ বাবদ মৎস্য কর্মকর্তা ৩০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু মুলিয়া ইউনিয়নের একটি বরাদ্দ ছাড়া আর বাকি তিনটির বরাদ্দ তিনি দেননি। মুলিয়া ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত প্রদর্শনীর টাকা থেকেও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা রেখে দেন। কৃষক-খামারিদের কাজ না করায় টাকা ফেরত চাইলে, তিনি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কয়েক দফায় আমাকে ঘোরান।

জিসানুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, সর্বশেষ রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের অফিসে গিয়ে প্রদর্শনীর তালিকা এবং কাজ না করে দেওয়ায় ঘুষের টাকা ফেরত চাই। টাকা ফেরত চাইতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। টাকা নেওয়ার প্রমাণ দিতে বলে তিনি (মৎস্য কর্মকর্তা) অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। গালিগালাজের পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, 'আগে পুলিশ মেরে পুলিশের চাকরি ছাড়ছি, দরকার হলে এবার তোকে (জিসানুর) মেরে এ চাকরিও ছাড়ব।' এ ধরনের ব্যবহারের কারণে আমি মোবাইল ফোনে সব রেকর্ড করি। তিনি তাঁর চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার ফোনটি হাত থেকে কেড়ে নিয়ে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলেন। এ সময় তাঁর অফিসের স্টাফ তকদির, দীপু, জামশেদ এসে আমাকে মারধর শুরু করেন। ধস্তাধস্তির মধ্যে রায়হান সাহেবের হাতের ধাক্কায় তাঁর টেবিলে থাকা মনিটর পড়ে যায় এবং আমাকে সবাই মিলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে। তাঁর টেবিলে থাকা পেপার ওয়েট দিয়ে আমার বুকে-পিঠে আঘাত করে। ধস্তাধস্তি ও মারধরের মধ্যে তাঁদের কেউ একজন আমার গলায় থাকা সাড়ে ৬ আনার স্বর্ণের চেইন ছিঁড়ে নেন। এ ছাড়া মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। তবে আমি থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে থানা থেকে জানানো হয়, সাক্ষী ছাড়া মামলা হবে না। আমি একা ছিলাম, সাক্ষী কোথায় পাব? সরকারি কর্মকর্তার এমন অপেশাদার আচরণের বিচার দাবি করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. জিসানুর রহমান।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিসানুরের অভিযোগের সত্যতা জানতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, তিনি ছুটিতে আছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত রোববার (২৮ জুন) রাতে অফিসকক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কর্মচারীর কর্তব্যকাজে বাধাদানসহ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিসানুর রহমানসহ আরও অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪