স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে সব লাইসেন্সবিহীন মদের বার অবিলম্বে বন্ধ এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নতুন করে মদের বারের লাইসেন্স না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই উত্তরা এলাকার সব মদের বার প্রত্যাহার এবং অবৈধ বারগুলো বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিক বা বিশেষ কারিগরি প্রয়োজনের কারণে কোথাও মদের বার রাখার প্রয়োজন হলে তা জনসম্মুখে নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালনা করা উচিত, যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত না লাগে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে ক্ষমা চাইতে বলেন, তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য আগে আত্মসমালোচনা করা উচিত। একই সঙ্গে সংসদে জামায়াতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে দলটিকে দুর্বল করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগীদের পরামর্শে চললে তার নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে। তবে তিনি তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পুরোনো নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক।
মাদকবিরোধী বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু রাজনীতিক মাদকমুক্ত সমাজ চান না, কারণ এতে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে। উত্তরাকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত করতে মদের বার নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে ২৫টি ডিজিটাল অ্যাপ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি ও বিলাসিতার প্রবণতা অনেক যুবককে মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মাদকাসক্তদের প্রতি ঘৃণা নয়, বরং সহমর্মিতা ও পুনর্বাসনের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সামাজিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও মাদক নিয়ন্ত্রণকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা এবং সঞ্চালনা করেন ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।