| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ক্যান্সারে আক্রান্ত জুনায়েদের চিকিৎসায় সহায়তার আবেদন

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৪, ২০২৬ ইং | ২৩:১৮:০১:অপরাহ্ন  |  ৪৮২ বার পঠিত
ক্যান্সারে আক্রান্ত জুনায়েদের চিকিৎসায় সহায়তার আবেদন

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাবা-মায়ের সঙ্গহীন ১০ বছর বয়সী জুনায়েদ হোসেন আলিফ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যেই হারিয়েছে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার না হলে তার জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জুনায়েদ স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাত্র এক মাস আগেও অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো ও পড়াশোনা নিয়েই কেটে যাচ্ছিল তার দিন। কিন্তু হঠাৎ চোখে তীব্র ব্যথা ও জ্বালাপোড়া শুরু হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, সে ভয়াবহ ক্যান্সারে আক্রান্ত।

জুনায়েদের জীবনের সংগ্রাম শুরু হয়েছে শৈশব থেকেই। মাত্র দেড় বছর বয়সে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে বাবা স্বপন সরদার ও মা হিরা বেগম পৃথকভাবে নতুন সংসার গড়েন। এরপর থেকে সন্তানের দায়িত্ব নেননি তারা। সেই থেকে নানি খাইরুল বেগমই নিজের সন্তানের মতো তাকে লালন-পালন করে আসছেন।

অভাবের সংসারে ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করেন খাইরুল বেগম। সেই সামান্য আয় দিয়েই এতদিন নাতির ভরণপোষণ, পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ চালিয়ে এসেছেন। কিন্তু এখন ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

খাইরুল বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকে নাতিকে আমি মানুষ করেছি। তার বাবা-মা দুজনই আলাদা সংসার করেছেন। আমার আর কোনো সহায়-সম্বল নেই। ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করে যা আয় করি, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। চিকিৎসকরা বলেছেন, নাতির চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী ভাই-বোন এবং সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন—আপনারা আমার নাতিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।

স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ সরদার জানান, চিকিৎসকদের মতে জুনায়েদের অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রায় সাত লাখ টাকা প্রয়োজন, যা দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

প্রতিবেশী শামিম সরদার বলেন, ছোটবেলা থেকেই জুনায়েদ নানির কাছেই বড় হয়েছে। সে খুবই শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী একটি ছেলে। তার চিকিৎসার জন্য সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসা উচিত।

এলাকাবাসীর দাবি, জুনায়েদ শুধু একটি পরিবারের সন্তান নয়, সে পুরো এলাকার আদরের শিশু। তার চিকিৎসার জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, প্রবাসী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সবার সম্মিলিত সহায়তা ও মানবিক উদ্যোগই পারে ছোট্ট জুনায়েদ হোসেন আলিফের জীবনে আবারও আশার আলো ফিরিয়ে আনতে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪