রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও পল্লীকেন্দ্রিক। শুধু শহরের উন্নয়ন দিয়ে টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়; গ্রামকে সমান গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়নের পথ এগিয়ে নিতে হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবসের এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, প্রথমবারের মতো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রতিবছর ৬ জুলাই বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ, এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর উদ্যোগে সিরডাপ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই প্রতিষ্ঠার স্মরণেই দিবসটি উদযাপিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সিরডাপ গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে এবং দিবসটির জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে সিরডাপ আঞ্চলিক সংহতি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২১৫টি গবেষণা কর্মসূচি এবং ৩৫০টি সক্ষমতা উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। পাশাপাশি আট হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে বর্তমানে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি অংশীজনের কাছে পৌঁছে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রামীণ সমাজ জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর, খাদ্য নিরাপত্তা এবং যুব বেকারত্বের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিরডাপ জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি আরও ৪০টি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (পিআইডিএফ) সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সংস্থাটি আঞ্চলিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।
মন্ত্রী বলেন, স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সিরডাপের সহযোগিতাকে দায়িত্ব ও গৌরব উভয় হিসেবেই বিবেচনা করে। স্বাধীনতার পর থেকে পল্লী উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার পল্লী উন্নয়নকে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রামীণ জনগণের সার্বিক কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে ১২ লাখেরও বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
তিনি বলেন, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে গ্রামগুলোকে প্রশাসন, অবকাঠামো ও জনসেবার কার্যকর কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ সেচব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নআয়ের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ফার্মার কার্ড’ চালুর মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি উপকরণ, কৃষিঋণ, বীমা ও বাজারসুবিধা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্যের শেষদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গ্রামীণ সমাজের জীবনমানের গুণগত পরিবর্তনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি সিরডাপের ৪৭ বছরের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে স্বাগত জানান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম