| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর বাবাকে মারধর, অপমানে আত্মহত্যা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৬, ২০২৬ ইং | ২১:৫৫:০০:অপরাহ্ন  |  ১৩৯৫ বার পঠিত
স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর বাবাকে মারধর, অপমানে আত্মহত্যা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৬) অপহরণ ও ধর্ষণের পর তার বাবাকে মারধর এবং অনবরত হুমকির মুখে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বখাটেদের বিরুদ্ধে। লোকলজ্জা ও বখাটেদের নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে নিজ বাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা আবুল কাসেম।

এ ঘটনায় গত রোববার রাতে আত্মহননকারী আবুল কাসেমের স্ত্রী মোছা. লাবনী আক্তার বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম কিশোরীটি স্থানীয় কালমেঘ রমজান আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বেশ কিছুদিন ধরে একই এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বখাটে তাকে উত্ত্যক্ত করাসহ অবৈধ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। স্কুলছাত্রী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সাইফুল ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণের ষড়যন্ত্র করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ওই ছাত্রী বিদ্যালয় যাওয়ার পথে স্কুলের পাশের রাস্তা থেকে আসামিরা জোরপূর্বক তাকে একটি অটোচার্জারে তুলে অপহরণ করে ঠাকুরগাঁও রোডের কাছাকাছি নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কিছু সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে মেয়েটির স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে সাইফুল ইসলাম জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

কৌশলে আসামিদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এরপর মেয়েটির বাবা আবুল কাসেম সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানালে আসামিরা উল্টো হুমকি দিয়ে বলে, মেয়েটির স্বাক্ষর দিয়ে তারা বিয়ের জাল কাবিননামা তৈরি করেছে। আইনি পদক্ষেপ নিলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে বলে আবুল কাসেমকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

মেয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো হুমকির মুখে পড়া আবুল কাসেম গত ২ জুলাই বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে কাঁচা রাস্তায় পৌঁছামাত্রই ওত পেতে থাকা আসামিরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রধান আসামি সাইফুল লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আবুল কাসেমের ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে দেয় এবং ৩ নম্বর আসামি মানিক হোসেন পিঠ ও কোমরে মারাত্মক জখম করে। আবুল কাসেম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাইফুলের ভাই ফরহাদ ওরফে কোম্পানী (৪০) তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় আসামিরা হুমকি দিয়ে বলে, "খুব শীঘ্রই তোমার মেয়েকে জোর করে আমাদের বাড়ি নিয়ে আসব, বাধা দিলে লাশ গুম করে ফেলা হবে।"

উপর্যুপরি মেয়ের ওপর বর্বর নির্যাতন, নিজের পঙ্গুত্ব এবং আসামিদের অনবরত প্রাণনাশের হুমকিতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন আবুল কাসেম। অবশেষে গতকাল ৫ জুলাই সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে পরিবারের সবার অগোচরে নিজ বসতবাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ১ নম্বর আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ছাড়াও তার ভাই ফরহাদ ওরফে কোম্পানী (৪০), মোঃ মানিক হোসেন (৪৫), মোঃ মুক্তিয়ার ওরফে মুক্তা (৩৫), মোঃ ফাহিম উদ্দীন (৩০), মোঃ ইমরান আলী (২০), অটোচার্জার চালক মোঃ রেজাউল ইসলাম (৩৫) এবং মোছাঃ ফাইমা বেগমকে (৩৮) আসামি করা হয়েছে।

মামলার ধারাগুলোতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৯(১)/৩০ ধারা (অপহরণ, ধর্ষণ ও সহায়তার অপরাধ) এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮৬/৫০৬/৩০৬/৩৪ ধারা (হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, গুরুতর জখম, বলপ্রয়োগে স্বাক্ষর গ্রহণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা) যুক্ত করা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইন্সপেক্টর মোঃ বুলবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "বাদীর লিখিত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা রুজু করা হয়েছে। আত্মহননকারী ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।"

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪