| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিশ্বনেতাদের রিভলভার উপহার দিয়ে কী বার্তা দিতে চাইলেন এরদোয়ান?

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১০, ২০২৬ ইং | ১৯:৪১:৪৮:অপরাহ্ন  |  ৫৪৬৬ বার পঠিত
বিশ্বনেতাদের রিভলভার উপহার দিয়ে কী বার্তা দিতে চাইলেন এরদোয়ান?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: একজন বিশ্বনেতা একটি বন্দুক ও ছয়টি গুলি দিয়ে কী করবেন? আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে অতিথি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের প্রত্যেককে একটি করে রিভলভার উপহার দিয়ে এমন প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আঙ্কারায় দুই দিনের ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এরদোয়ান তাকে এবং অন্যান্য নেতাদের নাম খোদাই করা একটি করে রিভলভার উপহার দিয়েছেন।

কালো আস্তরণযুক্ত লাল রঙের একটি বাক্সে রাখা ছিল রিভলভারটি। বাক্সে তুর্কি পতাকা, ন্যাটোর লোগো এবং ইংরেজি ও তুর্কি ভাষায় একটি প্ল্যাকার্ডসহ রিভলভারটি সাজানো ছিল। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘গুমুশায়, আমাদের দেশে উৎপাদিত প্রথম রিভলভার-টাইপ হ্যান্ডগান।’

ন্যাটোভুক্ত বিভিন্ন দেশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপহারটি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এমনকি এটি নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে বেশকিছু ‘অবিশ্বাস্য’ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পেতের মাজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ন্যাটো সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের কাছ থেকে একটি অস্বাভাবিক উপহার পেয়েছি। আমার নাম খোদাই করা একটি ম্যাগনাম রিভলভার ও গুলি।’

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ভেভার অবশ্য বেলজিয়ামে অবতরণের পর উপহারের বক্সে বন্দুক থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। তার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জেনে বিস্মিত হন এবং সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রটি বিমানবন্দর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন, যাতে সেটি নিরাপদ ভল্টে রাখা যায় এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি পরিচালনা করা হয়।

ডে ভেভারের নিরাপত্তা দল ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার জন্য দেওয়া রিভলভারও নিজেদের দায়িত্বে গ্রহণ করে। তবে এ নিয়ে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রটোকল মেনে চলতে গিয়ে তাদের বাড়তি জটিলতার মুখে পড়তে হয়।

ফন ডার লেয়েনের মুখপাত্র জানান, উপহারের জন্য তিনি এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে রিভলভারটি অকার্যকর (ডিকমিশন) করে সামরিক জাদুঘরে দান করা হবে।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাভরোৎসকির জন্য দেওয়া রিভলভারটিও নিরাপদে পৌঁছেছে। তবে এটি গ্রহণ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। কারণ, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের একটি ঘটনা এখনও পোল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মনে তাজা।

সেবার ইউক্রেন সফর শেষে উপহার হিসেবে পাওয়া একটি অ্যান্টি-ট্যাংক গ্রেনেড লঞ্চার দেশে নিয়ে এসেছিলেন পোল্যান্ডের তৎকালীন পুলিশপ্রধান। পরে সেটি তার কার্যালয়ে বিস্ফোরিত হলে তিনি সামান্য আহত হন। একই সঙ্গে রাজধানী ওয়ারশতে পুলিশ সদর দপ্তরের ভবনেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এবার অবশ্য এমন কিছু ঘটবে না বলে মন্তব্য করেছেন নাভরোৎসকির এক সহকারী। স্থানীয় একটি রেডিওকে তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত, কেউই এই অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়তে যাচ্ছে না।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি রিভলভার আপাতত তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারাতেই রয়ে গেছে। কারণ, এসব দেশের আইনে কার্যকর আগ্নেয়াস্ত্র এক দেশ থেকে অন্য দেশে পরিবহন করা সহজ নয়। বিশেষ করে অস্ত্রগুলো সম্পূর্ণ কার্যক্ষম থাকলে সেগুলো বহনের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার রিভলভার সঙ্গে নিয়ে গেলেও গুলিগুলো তুরস্কেই রেখে গেছেন বলে জানিয়েছেন কানাডীয় কর্মকর্তারা। তবে কেন তিনি এমন করেছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তার রিভলভারটি সুইডেনে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রচলিত সব নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

তবে শুধু পরিবহন-সংক্রান্ত জটিলতাই নয়, উপহারটির উদ্দেশ্য নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের পর বারবার একটি প্রশ্নই সামনে এসেছে, ‘এমন উপহার কেন?’

রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে বৈঠক বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপহার বিনিময় অস্বাভাবিক নয়। তবে এমন উপহার, যার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র পরিবহন, নিরাপত্তা এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে এত সতর্কতা প্রয়োজন হয়, তা খুবই বিরল। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরদোয়ান এই উপহারের মাধ্যমে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রদর্শন করতে চেয়েছেন, যা এখন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত এবং পররাষ্ট্রনীতির একটি কার্যকর হাতিয়ার।

এছাড়া উপহার হিসেবে দেওয়া রিভলভারটি ছিল তুরস্কে তৈরি Gümüşay .357 Magnum। এটি ১৯৯০-এর দশকে রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান MKE নির্মিত একটি বিরল রিভলভার। কাঠের বাক্সে তুরস্কের পতাকা ও ন্যাটোর লোগোর পাশাপাশি একটি ফলকে লেখা ছিল, "Gümüşay, the first revolver-type handgun produced in our country"। অর্থাৎ উপহারটি শুধু একটি আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বরং তুরস্কের নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে।

রয়টার্স আরও উল্লেখ করেছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির পর তুরস্ক বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ন্যাটো নেতাদের এমন উপহারকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের এক ধরনের কূটনৈতিক প্রদর্শনী (defence diplomacy) হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪