ভাঙ্গা(ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেছেন, সুমন শেখ হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী এলাকায় নিহত সুমন শেখের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য বলেন, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় সুমনের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গত ৩০ জুন রাতে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা ও ফাস্টফুড ব্যবসায়ী সুমন শেখ। পরে তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার চার দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজিব মাতুব্বর, ছাত্রদলের সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী মিশান মাতুব্বর এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী এনায়েত সরদারসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে দুই গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে সংঘটিত একটি মারধরের ঘটনার জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙ্গা-মাওয়া মহাসড়ক ও ভাঙ্গা-ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সংবাদকর্মীও আহত হন বলে জানা গেছে।
সুমন শেখের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। পরে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। বুধবার রাতে শতাধিক নারী ভাঙ্গা থানা ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করেন। পরে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল ভিডিও কলে তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিচার ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
নিহত সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ দাবি করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে ভাঙ্গা পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি