| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভারতে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী ঘোষণা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২১, ২০২৬ ইং | ১৩:৩৭:৫৯:অপরাহ্ন  |  ২৯৯৪ বার পঠিত
ভারতে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের যুবনেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সরকারবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তবে দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক সমর্থক আহত হওয়ার পর তারা আর সংসদ অভিমুখে মিছিল করবে না বলে জানিয়েছে।

সোমবার সংসদ অভিমুখে মিছিল ঠেকাতে পুলিশ বাধা দিলে রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ১৭৮ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন। অন্যদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দাবি করেছেন, ১৫০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব সংখ্যার সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে শুরু হওয়া ‘ককরোচ’ আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

দিল্লি ও আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে হাজারো তরুণ সংসদমুখী মিছিলে অংশ নেন। আন্দোলনের মূল দাবি, জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পুনরায় পরীক্ষা নিতে হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মানসিক চাপে অন্তত এক ডজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

মঙ্গলবার দিল্লির জন্তর মন্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব, কিন্তু আর সংসদ অভিমুখে মিছিল করব না। কারণ আমরা চাই না পুলিশ আবার তরুণদের ওপর হামলা চালাক।

তিনি বিশেষ করে নারী সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, পুরুষ পুলিশ সদস্যরা নারী আন্দোলনকারীদের ওপরও বলপ্রয়োগ করেছেন।

দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সহিংস ও উসকানিমূলক আচরণ করেছে। বারবার সতর্ক করার পরও তারা সংসদ অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।

আন্দোলনে নতুন গতি আসে পরিবেশবাদী কর্মী সোনম ওয়াংচুক সমর্থন দেওয়ার পর। গত ২৮ জুন তিনি অনশন শুরু করেন। তবে গত শনিবার কর্তৃপক্ষ তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যায়।

উত্তর প্রদেশ থেকে আসা আন্দোলনকারী সাহিল সিং রয়টার্সকে বলেন, পুলিশ আমাদের নির্মমভাবে মারধর করেছে এবং আমাদের অবস্থানস্থলও ভেঙে দিয়েছে। আমরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই।

সিজেপি জানিয়েছে, সোমবার তাদের দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নফাঁস-পরবর্তী আত্মহত্যাকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এদিকে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, যখন আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে, তখন পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা উচিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নফাঁস, বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে ভারতের তরুণদের মধ্যে যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে, ‘ককরোচ’ আন্দোলন তারই বহিঃপ্রকাশ। আলোচনার মাধ্যমে সাময়িক সমাধান এলেও এই অসন্তোষ ভবিষ্যতে মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

এশিয়া-প্যাসিফিকভিত্তিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডি-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়া বলেন, এটি এমন একটি ইস্যু, যা প্রায় প্রতিটি পরিবারকে স্পর্শ করে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪