বগুড়া প্রতিনিধি: গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, বৈষম্যহীন ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বানের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ২৫ ও ২৬ জুলাই আরডিএ মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ বগুড়ার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও আরডিএর কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএ বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও জলবায়ু-সহনশীল পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, আরডিএ পানিসাশ্রয়ী ও সৌরচালিত সেচ, আইওটি-ভিত্তিক সেচ প্রযুক্তি, চরাঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পল্লী জনপদ ও নারী বীজ উদ্যোক্তা মডেলসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষা, মর্যাদা ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের উন্নয়নে প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক অর্থনীতি ও শহরের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আরডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, সর্বজনীন ও মানসম্মত শিক্ষা এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের (৪আইআর) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আরডিএকে আন্তর্জাতিক মানের ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের সঙ্গে কার্যক্রম সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুই দিনের সম্মেলনে উন্মুক্ত আলোচনা, উদ্ভাবিত পণ্যের প্রদর্শনী এবং গবেষণাবিষয়ক পোস্টার উপস্থাপন করা হয়। এতে দেশি-বিদেশি গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।