| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঘুষের টাকা ফেরত পেলেন মুক্তা, ফেরত পেলেন না চাকরি

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১১, ২০২৬ ইং | ০০:৫৮:০২:পূর্বাহ্ন  |  ১২৩ বার পঠিত
ঘুষের টাকা ফেরত পেলেন মুক্তা, ফেরত পেলেন না চাকরি

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মাস্টার রোলে সুইপার পদে চাকরি দেওয়ার নামে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকরি হারানোর পর ওই টাকা ফেরত চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মুক্তা হরিজন। অভিযোগ দেওয়ার পর রাতেই তাঁকে ডেকে টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করেছেন মুক্তা। তবে চাকরি আর ফেরত পাননি তিনি।

মুক্তা হরিজনের অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারিতে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সিএ ইনসানের মাধ্যমে ইউএনওর বাংলোয় মাস্টার রোলে সুইপার পদে চাকরির জন্য ৪ লাখ টাকা দেন তিনি। টাকা দেওয়ার পর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কাজ করেন। পরে কাজে গাফিলতির অভিযোগ তুলে জুন মাসে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

চাকরি হারানোর পর ঘুষের টাকা ফেরত পেতে ইনসানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মুক্তা। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও তা না দেওয়ায় গত ৬ আগস্ট শেরপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

মুক্তা হরিজনের দাবি, জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়ার খবর পাওয়ার পর শ্রীবরদী ইউএনওর সিএ ইনসান তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ডেকে নেন এবং ওই রাতেই ৪ লাখ টাকা ফেরত দেন। একই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের লিখিত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে মুক্তা বলেন, প্রথমে তাঁকে চাকরির জন্য ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। পরে দর-কষাকষির পর ৪ লাখ টাকায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এ টাকা জোগাড় করতে তিনি স্বর্ণের গয়না ও বিভিন্ন আসবাবপত্র বিক্রি করেন।

মুক্তা আরও বলেন, ইউএনওর বাংলোয় কাজ করার সময় তাঁকে দিয়ে বিভিন্ন গৃহস্থালির কাজও করানো হতো। তবে মাসে চার দিন ছুটি চাওয়ায় তাঁর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। পরে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউএনওর সিএ ইনসান বলেন, “আমাদের কি চাকরি দেওয়ার কোনো ক্ষমতা আছে? চাকরি বা ঘুষের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও পরে ভুল বুঝে অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মুক্তা হরিজন।”

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তাঁর বাংলোয় মাস্টার রোলে মুক্তা হরিজন নামে একজনকে অস্থায়ীভাবে সুইপার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি ঠিকমতো কাজ না করায় তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর ঘটনাটির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪