| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হাতি বাঁচাতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান বনমন্ত্রীর

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১২, ২০২৬ ইং | ১৫:২৯:৫৭:অপরাহ্ন  |  ৫৯০৯ বার পঠিত
হাতি বাঁচাতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান বনমন্ত্রীর

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মানুষ ও হাতির সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও তা কমিয়ে সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি। একই সঙ্গে হাতির আক্রমণে ফসলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি ফসল বিমার আওতায় আনার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের হৈমন্তি মিলনায়তনে বিশ্ব হাতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বিশ্ব জুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’।

হাতি ও মানুষের সংঘাত প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী বলেন, মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্ব পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে এই সংঘাত কমিয়ে উভয়ের সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যৌক্তিকতার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফসলের ক্ষতির জন্য বিমার সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, সেটিও বন অধিদপ্তরকে খতিয়ে দেখতে বলেন তিনি।

আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্য হাতির সংখ্যা ২৬৮টি। এ ছাড়া ৯৩টি পরিযায়ী বন্য হাতি এবং ৯৬টি পোষা হাতি রয়েছে।

তিনি বলেন, বন উজাড়, বনের মধ্য দিয়ে রাস্তা-রেললাইন ও বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ, আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণী অপরাধের কারণে হাতি নানা ধরনের সংকটে পড়ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজারভেশন প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এতে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে।

মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি ক্ষতিপূরণের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা-২০২১ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণে নিহত ৩২২ জনের পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও পশুর ক্ষতির শিকার ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও মানুষকে সতর্ক করতে হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৬০টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে কমবেশি ১০ জন সদস্য রয়েছেন। হাতি লোকালয় বা ফসলের জমিতে প্রবেশ করলে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া, গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে এসব দল কাজ করছে।

হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বনমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় মানুষকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব কমাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৫ সালে হাতি সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটির পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

হাতির খাদ্য ও আবাসস্থল উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর খাদ্য উপযোগী ৩ হাজার ২৪৮ হেক্টর বাগান তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বনায়ন কার্যক্রমে হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর খাদ্য উপযোগী বৃক্ষের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

আন্তঃসীমান্ত হাতি সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠকের পর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আন্তঃসীমান্ত হাতি সংরক্ষণে একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বন্যপ্রাণী অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০২৬-এ বন্যপ্রাণী হত্যা, শিকার, পাচার ও অবৈধ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ করে হাতি হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

পোষা বা ক্যাপটিভ হাতির কল্যাণের বিষয়েও গুরুত্ব দেন বনমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বুদ্ধিমান প্রাণী। তাই পোষা বা বন্দি হাতির ক্ষেত্রে তাদের কল্যাণ, নিরাপত্তা, স্বাভাবিক আচরণ এবং প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

সবশেষে হাতি সংরক্ষণকে শুধু সরকারের দায়িত্ব না দেখে সমাজের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে বন, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত করা সম্ভব।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪