| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৩, ২০২৬ ইং | ১০:৫৭:০৪:পূর্বাহ্ন  |  ২২৮০ বার পঠিত
২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: দীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী জোটের সামরিক অভিযানেরও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বুধবার এক বিবৃতিতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বিদেশি সেনা ইরাক ত্যাগ করবে এবং এই সময়সীমা চূড়ান্ত। ফলে ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না দিনটিকে ইরাকের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকে আইএসবিরোধী বৈশ্বিক জোটের সামরিক অভিযানের সমাপ্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করা হবে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বৈঠকের সঙ্গে সম্পর্কিত। সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা বহাল রাখার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। সে সময়ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় আলী আল-জাইদি জানিয়েছিলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরাক ছাড়বে এবং এরপর দুই দেশের সম্পর্ক সামরিক সহযোগিতার পরিবর্তে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যাবে।

বুধবারের বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের প্রতি সম্মান রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে। পাশাপাশি অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও জোরদারের দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস শুরু হয় ২০০৩ সালে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯ মার্চ ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী।

অভিযান শুরুর প্রায় নয় মাসের মাথায়, ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। প্রায় তিন বছর বিচারপ্রক্রিয়া চলার পর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

সাদ্দাম হোসেনের পতনের পরও ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকে। দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান এবং নিরাপত্তা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সেনারা সেখানে অবস্থান করে।

সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পর ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি সামনে এলেও পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। দেশটিতে উত্থান ঘটে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর।

২০১৪ সালের পর আইএসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট আবারও ইরাকে সামরিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। আইএসের দখলে থাকা বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরবর্তীতে ইরাক থেকে আইএসের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পুনরুদ্ধার করা হলেও গোষ্ঠীটির কিছু সদস্য ও স্লিপার সেল দেশটিতে সক্রিয় থেকে যায়। এ কারণে ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তার যুক্তিতে মার্কিন সেনাদের একটি অংশ ইরাকে অবস্থান করছিল।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইরাকের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট ছিল। দেশটির সরকার চাইছিল, নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব ধীরে ধীরে পুরোপুরি ইরাকি বাহিনীর হাতে চলে আসুক।

মার্কিন কর্মকর্তারাও বলছেন, আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক এবং আন্তর্জাতিক জোটের অংশীদাররা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে ইরাকে থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো মোকাবিলায় ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী অনেক বেশি সক্ষম বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

তবে ইরাকে বর্তমানে ঠিক কতজন মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, সে সংখ্যা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে থাকা মার্কিন বাহিনীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে এবং অবশিষ্ট সেনাদেরও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি চলছে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি দীর্ঘ সামরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। তবে দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। বরং সামরিক সহযোগিতার পরিবর্তে অর্থনীতি, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ও দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরাকের তেল, গ্যাস ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

ফলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শুধু ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের শেষ দিনই নয়, দুই দেশের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে। ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে বিদেশি সেনার উপস্থিতি না থাকার ঘোষণাকে তাই দেশটির সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে বাগদাদ।

সূত্র: আলজাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪