| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা অভিযোগে আটক ৪

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৬, ২০২৬ ইং | ১২:২৪:০৫:অপরাহ্ন  |  ৬৯৯ বার পঠিত
ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা অভিযোগে আটক ৪

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে লাল বাদশা (২০) নামে এক তরুণকে নির্ম*মভাবে পিটিয়ে হ*ত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামালগঞ্জ চার মাথা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় মাজেদুল ইসলাম (১৮) নামে আরও এক তরুণকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত লাল বাদশা ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের জামালের ছেলে। আহত মাজেদুল ইসলামও একই গ্রামের বাসিন্দা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার রিয়াজপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে আজিমুল হক (৩৫), পাম্পের কর্মচারী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার উত্তর বানা গ্রামের আব্দুর সামাদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম সজীব (৩১), ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩০) এবং জয়পুরহাট সদর উপজেলার বেলতলা গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে আমজাদ আলী (২০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশন এলাকায় লাল বাদশা ও মাজেদুল প্রবেশ করেন। তাদের চোর সন্দেহে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা আটক করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে তাদের পাশের একটি পোল্ট্রি খামারে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতনের একপর্যায়ে দুই তরুণ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাদের ক্ষেতলালের মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার সড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়।

শনিবার ভোরে স্থানীয়রা সড়কের পাশে তাদের পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল বাদশাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। গুরুতর আহত মাজেদুল ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় আহত মাজেদুলের বক্তব্যে। তিনি জানান, তারা চুরি করার বিষয়টি বারবার অস্বীকার করলেও তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি অপরাধ স্বীকার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ভোরে জ্ঞান ফেরার পর পাশে লাল বাদশার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

একটি চুরির সন্দেহ আর সেই সন্দেহ থেকেই কি একটি তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল? আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন মানুষকে নির্যাতন করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার এই অভিযোগ এলাকায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কোনো ব্যক্তি অপরাধী হলে তার বিচার করার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও আইনের; কিন্তু সন্দেহের বশে কাউকে নির্যাতন করে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাতজনকে আটক করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে চারজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদের ক্ষেতলাল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

এদিকে নিহত লাল বাদশার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে তরুণটি জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরে আসার কথা ছিল, তার নিথর দেহ ফিরেছে বাড়িতে। একটি পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও আপনজন হারানোর এই বেদনা যেন কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো অভিযোগ বা সন্দেহের ভিত্তিতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিতে না পারে এমন প্রত্যাশাও এলাকাবাসীর।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪