স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার একটি আবাসিক এলাকার বাসা থেকে অভিনেত্রী রিধিকা রিধি ওরফে নিলা আক্তারের (২৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, প্রেমিক হাসিবুর রহমানের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার একপর্যায়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রিধিকা।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কে হাসিবুরের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে রিধিকার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মা মনি বেগম বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় প্রেমিক হাসিবুরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের কালকিনী উপজেলার এনায়েতনগর গ্রামের মেয়ে অভিনেত্রী রিধিকা রিধির সঙ্গে অভিযুক্ত হাসিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক চলাকালে হাসিবুর তাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এতে রিধিকা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার দিন ১৪ আগস্ট রিধিকা তার বাসায় দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। রাত ১১টার দিকে রাতের খাবার শেষে তারা গল্প করার সময় প্রেমিক হাসিবুরের সঙ্গে মোবাইলে রিধিকার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রিধিকা তার বান্ধবীদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন। এরপর তিনি নিজে রুমে গিয়ে হাসিবুরের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে থাকেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১৫ আগস্ট ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ভিডিও কলে কথা বলা অবস্থাতেই হাসিবুরের প্ররোচনায় এবং তীব্র মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে রিধিকা নিজের ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।
এরপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্ত হাসিবুর রিধিকার ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করলে ড্রয়িংরুমে থাকা বান্ধবীরা দরজা খুলে দেন। তখন হাসিবুর জানান, তার ওপর রাগ করে রিধিকা ফাঁসি দিয়েছেন। পরে সবাই মিলে রুমের ভেতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রিধিকাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সকাল সাড়ে ৬টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ভাটারা থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রিধিকার মা মনি বেগম এজাহারে দাবি করেন, তার মেয়ে মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন। হাসিবুরের মানসিক নির্যাতন ও প্ররোচনার কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
মডেলিংয়ের মাধ্যমে মিডিয়া জগতে আসা রিধিকা বেশ কিছু বিজ্ঞাপন ও নাটকে কাজ করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব