| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নাটালির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের গুঞ্জন, নীরব মেলানিয়া

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২০, ২০২৬ ইং | ২১:৪৮:২৪:অপরাহ্ন  |  ৮২৯ বার পঠিত
নাটালির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের গুঞ্জন, নীরব মেলানিয়া

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ এক সহকারীর সম্পর্ক নিয়ে ওঠা জল্পনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এ নিয়ে তিনি বিরক্ত ও হতাশ বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

গত রোববার মার্কিন সিনেটর জন অসফ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ৩৫ বছর বয়সী সহকারী নাটালি হার্পকে নিয়ে রসিকতা করে মন্তব্য করেন। ডেমোক্র্যাট এই সিনেটরের দাবি, ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প হার্পের সঙ্গে এমন এক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, যা তাকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলেছে।

পরদিন সোমবার হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে ভিত্তিহীন গুজব বলে উড়িয়ে দেয়; যদিও সরকারি নানা অনুষ্ঠান ও সফরে ট্রাম্পের পাশে হার্পকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। তাদের এ ঘনিষ্ঠতা দুজনের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার গুঞ্জনও সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি সরকারি নানা অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পাশে স্ত্রী মেলানিয়ার টানা অনুপস্থিতি এ গুঞ্জনকে আরও উসকে দিচ্ছে।

সিনেটর জন অসফ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজের যে কাজ, সেটা করতে চান না। বরং তিনি নিজের বলরুম তৈরি করতে চান এবং কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া অরক্ষিত উড়ন্ত প্রাসাদে (নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান) নাটালিকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করতে চান।’

ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা অসফের এ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল জন অসফকে ‘বিব্রতকর, মেয়েলি স্বভাবের একজন থিয়েটারকর্মী’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘জন অসফ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চরিত্রে অভিনয় করার ভান করছেন।’

ইংল জোর দিয়ে বলেন, নাটালি হার্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও কঠোর পরিশ্রমী সহকারীদের একজন। গুরুত্বহীন, ব্যর্থ লোকটি (জন অসফ) কী বললেন, তাতে কারও বিন্দুমাত্র পরোয়া নেই। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চেউং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিনেটর অসফকে ‘রাজনীতির সবচেয়ে বড় “কাকল্ড” (যার স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে পালিয়েছেন) ও ব্যর্থ ব্যক্তি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

চেউং আরও বলেন, দেশের জন্য কাজ করা পরিশ্রমী মানুষদের হেয় না করে জনের (অসফ) উচিত নিজের অন্তরের দিকে তাকানো এবং নিজেকে প্রশ্ন করা-কেন তিনি একজন দুঃখী ও হতাশাগ্রস্ত মানুষ, যিনি এ দেশকে ঘৃণা করেন। এর কারণ হলো, তিনি একজন উগ্রপন্থী ডেমোক্র্যাট। 

গত সোমবার ওভাল অফিসে একজন নারী সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জন অসফের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না বলে জানিয়ে দেন; বরং তিনি ওই সাংবাদিকের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং অসফকে কটাক্ষ করেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি তাদের বলেছেন, ‘(ট্রাম্পের) এ আক্রমণাত্মক পাল্টা প্রতিক্রিয়ার একটি কারণ, ফার্স্ট লেডি এসব বিষয় পছন্দ করেন না।’

ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কের সাবেক উপস্থাপক হার্প কয়েক বছর ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তাকে তার সঙ্গে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। 

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প তাকে ‘মানব প্রিন্টার’ নাম দিয়েছিলেন। কারণ, হার্প সঙ্গে সব সময় একটি প্রিন্টার রাখতেন এবং ট্রাম্প পড়তে আগ্রহী হতে পারেন-এমন সংবাদ প্রতিবেদনগুলো সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্ট করে দিতেন। 

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময় তার নির্বাহী সহকারী হিসেবে হার্পকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস এর আগে দাবি করেছিল, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান ঘটনাবলি সম্পর্কে ট্রাম্প যে ধারণা পোষণ করেন, তার ওপর হার্পের অযাচিত প্রভাব থাকতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, হার্প প্রায়ই ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী বা সেদিকে ঝুঁকে থাকা সূত্র থেকে ট্রাম্পকে খবর দেন এবং ট্রাম্পের সামনে তাকে প্রশংসা করে লেখা সংবাদ প্রতিবেদনগুলো অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প হার্পকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার জন্য লেখা বলে দিচ্ছেন, আর হার্প দ্রুত সেগুলো টাইপ করে তার (ট্রাম্পের) ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান জুন মাসে প্রকাশিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইয়ে দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় হার্প নিজেও ট্রাম্পকে অত্যন্ত প্রশংসাসূচক চিঠি লিখেছিলেন।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মন্তব্যের জন্য টেলিগ্রাফ থেকে মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪