| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ফ্রান্সে ‘মৃত্যুতে সহায়তা’ আইন কার্যকর

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২০, ২০২৬ ইং | ১১:১৩:৫৯:পূর্বাহ্ন  |  ৪৩৫৪ বার পঠিত
ফ্রান্সে ‘মৃত্যুতে সহায়তা’ আইন কার্যকর

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ফ্রান্সে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যুর অধিকার দেওয়া আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ আইনটির খসড়া অনুমোদনের পর এটি সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বহু বছরের বিতর্কের পর বুধবার প্রকাশিত এই আইনের মাধ্যমে ফ্রান্স এমন কয়েকটি দেশের কাতারে যুক্ত হলো, যেখানে সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যুর অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও কানাডা।

আইনটি ‘ইচ্ছামৃত্যু’ বা ‘সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু’ শব্দের পরিবর্তে ‘জীবনের অন্তিম পর্ব’ বা ‘মৃত্যুতে সহায়তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর আওতায় প্রাপ্তবয়স্ক ফরাসি নাগরিক বা দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দারা, যারা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত এবং অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগছেন, তারা নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধা নিতে পারবেন।

তবে সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যুর অনুমোদন পাওয়ার আগে কয়েক ধাপে যাচাই করা হবে। প্রথমে একজন চিকিৎসক রোগীর যোগ্যতা যাচাই করবেন। এরপর একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল নির্ধারণ করবে, আইনে নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হয়েছে কি না।

অনুমোদন পাওয়ার পরও রোগীকে অন্তত দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। নির্ধারিত সময় শেষে রোগীকে তার সিদ্ধান্ত পুনরায় নিশ্চিত করতে হবে। প্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে তিনি সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারবেন।

আইন অনুযায়ী, প্রাণঘাতী ওষুধ রোগীকেই নিজ হাতে গ্রহণ বা প্রয়োগ করতে হবে। তবে শারীরিকভাবে তা করতে অক্ষম হলে একজন স্বাস্থ্যকর্মী তাকে সহায়তা করতে পারবেন।

এতদিন ফ্রান্সে চিকিৎসার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মৃত্যুকে এগিয়ে নেওয়ার কিছু ব্যবস্থা অনুমোদিত ছিল। এর মধ্যে কৃত্রিম জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং মৃত্যুর আগে গভীর ঘুমে রাখার মতো ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সক্রিয়ভাবে জীবনের অবসান ঘটানোর সুযোগ ছিল না।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আইনটি পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার মতে, আইনটি একটি দীর্ঘ ও গণতান্ত্রিক বিতর্কের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। বিলটির রচয়িতাও এটিকে ‘বড় অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে আইনটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। জেরোম লেজুন ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সংগঠন এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের আশঙ্কা, আইনটি প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য দুর্বল মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিছু স্বাস্থ্যকর্মীও আইনটির বিরোধিতা করেছেন।

আইনটি নিয়ে বিতর্কের সময় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ বিশ্বাস ও বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ফ্রান্সে দীর্ঘদিনের ক্যাথলিক ঐতিহ্যের কারণে বিষয়টি দেশটিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত।

সরকারি গেজেটে প্রকাশের আগে আইনটি নিয়ে বেশ কয়েকটি আইনি চ্যালেঞ্জ হয়। সমালোচকদের কেউ কেউ যুক্তি দেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম দুই দিনের সময় যথেষ্ট নয়। আবার পুরো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বিবেকের কারণে এই কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর অধিকার দেওয়ার দাবিও ওঠে।

গত শুক্রবার ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ আইনটি বহাল রাখে। তবে কয়েকটি বিধান আরও স্পষ্ট করার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘বিবেকের স্বাধীনতা’ সংক্রান্ত বিধান, যার আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন।

পরিষদ জানায়, রোগীর আবেদন মূল্যায়নের সময় চিকিৎসকদের অবশ্যই তার আইনগত অভিভাবকের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি ফার্মাসিস্টরাও বিবেকের স্বাধীনতার এই বিধান প্রয়োগ করতে পারবেন।

এ ছাড়া বেসরকারি ও ধর্মভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য হবে, যদি সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু তাদের প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশের স্পষ্টভাবে পরিপন্থী হয়। তবে কোনো এলাকায় যদি ওই প্রতিষ্ঠানই স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ব্যবস্থা হয়, তাহলে এই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত থাকবে।

সূত্র : গার্ডিয়ান

রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪