| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

২০০ টাকার নিচে মিলছে না মাছ, বাড়ছে মুরগি-ডিমের দাম

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২১, ২০২৬ ইং | ১১:৩২:৩৮:পূর্বাহ্ন  |  ৩৬১১ বার পঠিত
২০০ টাকার নিচে মিলছে না মাছ, বাড়ছে মুরগি-ডিমের দাম

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর বাজারে একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় চরম চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে বাড়তি দামের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। একই সঙ্গে ২০০ টাকার মধ্যে মিলছে না কোনো মাছ। ডিমের ডজনও ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত হওয়ায় বাড়ছে সংসারের মাসিক খরচ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাংসের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বাড়লেও বিক্রেতাদের দাবি, বর্তমানে দাম গত সপ্তাহের কাছাকাছিই রয়েছে। এদিন ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে।

ডিমের বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। বাজারভেদে সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবার পাড়া-মহল্লার দোকানে একই ডিমের ডজন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ফলে বাজার ও এলাকাভেদে দামের পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা আনিস আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মুরগির দাম তেমন পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, “আজ ১৯০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। গত সপ্তাহেও একই দাম ছিল। সোনালি মুরগিও আগের দামেই ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।”

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কম দামের মাছের তালিকাতেও এখন আর স্বস্তির জায়গা নেই। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাষের কই বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা কেজি, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা দরে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। মাঝারি আকারের রুই মাছ কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি। ইলিশের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায়। আর ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা।

রায়ের বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা সোহেল বলেন, বাজারে মাছ কিনতে এসে এখন রীতিমতো অবাক হতে হয়। ২৫০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়াও আড়াইশ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তার ভাষায়, আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য বাজার করাই কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। আগের দামেই মাছ বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে দাম ওঠানামা করছে। একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার বেড়ে যাচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে এসে এখন মাছ, মুরগি ও ডিম এই তিনটি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। একটি পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের তালিকা ঠিক রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ক্রেতারা বলেন, ২০০ টাকার মধ্যে এখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রয়লার মুরগির দামও অনেক বেশি। ডিমের দামও বেড়েছে। অথচ তাদের আয় সেভাবে বাড়েনি। বাজার খরচ প্রতিদিনই বাড়ছে। আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন সেই টাকা কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

তাদের আশঙ্কা, এভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত কেনা অনেক পরিবারের জন্য ধীরে ধীরে বিলাসিতায় পরিণত হতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪