| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৮, ১০৫ ভারতীয়সহ নিখোঁজ শতাধিক

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৬, ২০২৬ ইং | ১৭:০৮:০৩:অপরাহ্ন  |  ৫২ বার পঠিত
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৮, ১০৫ ভারতীয়সহ নিখোঁজ শতাধিক

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: নেপালের ভোটো কোশি নদীতে আচমকা ধেয়ে আসা আকস্মিক বন্যায় ভেসে গিয়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ১০৫ জন ভারতীয় সহ বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে নেপালের নুয়াকোট ও ধাডিং জেলায়।

 নেপালি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সীমান্ত সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চল থেকে প্রবল বেগে নেমে আসা বন্যার জল নেপালের সীমান্ত এলাকার একাধিক গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র তথা ডিআইজি অবি নারায়ণ কাফলেকে উদ্ধৃত করে 'নেপাল নিউজ' জানিয়েছে, নুয়াকোট ও ধাডিং জেলা থেকে এ পর্যন্ত অন্তত আটটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জলমগ্ন ও উপদ্রুত এলাকা থেকে ২৯১ জন বিদেশী এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক সহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশীদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা। 

পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার এবং উদ্ধারকারী দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহের কাজ জোরকদমে চলছে। বুধবার তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের উত্তরের জেলাগুলোতে হঠাত বন্যার সৃষ্টি হয়। জলস্রোতে রাস্তাঘাট ভেঙে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) জানিয়েছে, রসুয়াগধি, চিলিমে, ত্রিশূলি ৩এ, ত্রিশূলি ৩বি হাব ২২০ কেভি সাবস্টেশন, ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ তাদের অন্তত ছয়টি প্রধান জলবিদ্যুৎ ও সঞ্চালন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

এছাড়া বন্যা ও ধসের কারণে নেপালের একাধিক জাতীয় সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেপাল পুলিশ ও স্থানীয়দের শেয়ার করা ভিডিওতে পাহাড়ি উপত্যকার মধ্য দিয়ে কর্দমাক্ত জলের ভয়াল রূপ দেখা গেছে। রসুয়া জেলাতেই নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। পাশাপাশি সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) আরও সাতজন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র এএফপি-কে জানান, ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়, তবে বন্যার আকার অনেক বড় এবং বহু লোকালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ ন্যাশনাল ডিস্যাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানান, মেডিকেল টিম, স্কাউট এবং রেড ক্রসকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্ষাকালে দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বিধ্বংসী বন্যা ও ধস একটি নিয়মিত ঘটনা। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া ও আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪