| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ কয়েকশ পর্যটক

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৬, ২০২৬ ইং | ২০:৩৮:৪৭:অপরাহ্ন  |  ৫৯ বার পঠিত
ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ কয়েকশ পর্যটক

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত-সংলগ্ন রসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যায় পাহাড়ধস ও তুষারধসের ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া ফুটেজে দেখা যায়, কীভাবে মিনিটের মধ্যে একটি বিশাল মাটি ও পলির দেয়াল গড়িয়ে এসে সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। মানুষ দৌঁড়ে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। কিন্তু শুধু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই বিশাল কালো মাটি ও পলির দেয়াল সবকিছুকে ঢেকে ফেলে। এতে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ১০৫ ভারতীয় নাগরিকসহ ৩৪১ জন পর্যটক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।

ঘটনাটিকে দুর্যোগ ঘোষণা করে রসুয়া জেলার প্রশাসক বলেছেন, তারা ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা করছেন। বুধবারের (২৬ আগস্ট) আকস্মিক এই বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবার রসুয়া জেলায় আকস্মিক এই বন্যার পর ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। পর্যটন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক রয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের পর্যটক রয়েছেন ১২ জন।

নেপালের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ভোতেকোশি নদীর পানি প্রবল স্রোতে বিভিন্ন এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। নেপালি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, সীমান্তের তিব্বত অংশ থেকে আসা পানির ঢলে এ বন্যার সৃষ্টি হয়। 

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এছাড়া রসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীও জানিয়েছে, তাদের সাত সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

দুর্যোগকবলিত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্য মোতায়েন করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।’

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে- প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, একটি বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর গতিপথ আটকে যায়। এর জের ধরেই ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ভোতেকোশি লেন্দে নদীরই একটি উপনদী।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, নেপাল সীমান্তেই মূলত ভূমিধসের ঘটনাটি ঘটেছে। এটি জিরং বন্দরে আঘাত হানে। এতে নেপাল সীমান্তবর্তী শিগাতসে অঞ্চলে সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এখনো উদ্ধার অভিযান চলমান। যাচাই করা ভিডিওতে সীমান্ত এলাকায় বহু মানুষকে পানির স্রোতে ভেসে যেতে দেখা গেছে। দুই দেশের কর্তৃপক্ষই আশঙ্কা করছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।নেপালে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্প পানির স্রোতে ভেসে গেছে।

তিব্বতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী গিরং এলাকায় ভূমিধসের পর ‘বড় ধরনের প্রাণহানির’ আশঙ্কা রয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস বা পাহাড়ধস সৃষ্টি হয়ে বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪