স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে একটি চীনা কোম্পানি। প্রকল্পটি চালু হলে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে এই বিদ্যুৎ কিনবে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
তিনি জানান, প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিংয়ে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে চুক্তি হয়েছে। চূড়ান্ত অর্থায়ন চুক্তি হবে বিনিয়োগকারী ব্যাংক, কোম্পানি ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে।
প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, দাম তুলনামূলক বেশি হলেও প্রকল্পটির মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বড় সুবিধা পাওয়া যাবে। চীনা কোম্পানি ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনকে মাসিক ভাড়া দেবে। পাশাপাশি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পর জৈব সারও উৎপাদন হবে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এ প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারকে নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুতের দাম বেশি হলেও পরিবেশ সুরক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধার কারণে সামগ্রিকভাবে প্রকল্পটি লাভজনক হবে বলে মনে করছে সরকার।
মীর শাহে আলম আরও জানান, চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দর উন্নয়নেও চীনের আগ্রহ রয়েছে। মোংলা বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে এর যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পাওয়ার চায়না’ নামে একটি কোম্পানি বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে থাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে প্রতিদিনের বর্জ্য থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব