স্টাফ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, তিনি আর জামিন চান না। একই সঙ্গে গত এপ্রিল মাসে করা তাঁর জামিনের আবেদন প্রত্যাহারেরও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাঁকে হাজির করা হয়। এদিন তাঁর জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।
শুনানি শুরুর আগে ট্রাইব্যুনালের কাছে কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি। অনুমতি পেয়ে এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে তিনি বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।’
নিজের স্বামীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তাঁর স্বামী তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন এবং সাত বছর ধরে বাকশক্তিহীন অবস্থায় ছিলেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় তিনি স্বামীর যত্ন নিয়েছেন বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানান।
দীপু মনি বলেন, তাঁর স্বামীকে বাড়ি ছেড়ে দুই বছর অজ্ঞাত স্থানে আশ্রিত অবস্থায় থাকতে হয়েছিল। কারাগারে থাকায় তিনি স্বামীর শেষ সময়ে তাঁর পাশে থাকতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।’
এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাতে দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় চার মাস আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলে ট্রাইব্যুনালে জানান দীপু মনি।
স্বামীর অসুস্থতার সময় তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য জামিনের আবেদন করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে এবার সেই জামিনের প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট করেন সাবেক এই মন্ত্রী।
দীপু মনির বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল তাঁর পরিস্থিতির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে জানায়, বিষয়টি তাদের জন্যও অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে জামিনের বিষয়ে আদালতকে আরও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।
দীপু মনির জামিন শুনানির পরবর্তী দিন আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এদিন শুনানি করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব