স্পোর্টস ডেস্ক: লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনেও ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে বের হতে পারেনি পাকিস্তান।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়েছে বাবর আজমের দল। ইংল্যান্ডের পেসার অলি রবিনসন ১৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন।
প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ২৯০ রান করার পর পাকিস্তান দ্রুত অলআউট হয়ে যায়। দিনের শেষদিকে ইংল্যান্ডও ৩ উইকেট হারিয়েছে। পরে আলোর স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হয়।
দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের কোচ সরফরাজ আহমেদ দলের ব্যাটিং নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে বর্তমান ব্যাটিং কম্বিনেশন প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারছে না বলেও স্বীকার করেন সাবেক এই অধিনায়ক।
সরফরাজ বলেন, ‘ব্যাটিং নিয়ে উদ্বেগ আছে। দুই টেস্টেই আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। ব্যাটিংকে শক্তিশালী করতে আমরা একটি কম্বিনেশন তৈরি করার চেষ্টা করছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ইনিংসেও সেটি কাজে আসেনি। দল বারবার ৩০-৩৫ ওভারের মধ্যেই অলআউট হয়ে যাচ্ছে।’
ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ব্যাটারদের জন্য শুরুটা কঠিন হলেও উইকেটে সময় কাটাতে পারলে রান করা সম্ভব বলে মনে করেন সরফরাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রিজে সময় কাটাতে পারছি না। ব্যাটারদের জন্য কন্ডিশন চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু ক্রিজে সময় কাটাতে পারলে পুরস্কৃত হওয়া যায়। প্রথম ৩০ থেকে ৪০ বল ব্যাটারদের জন্য কঠিন। কিন্তু সেই সময়টা পার করে দিতে পারলে ব্যাটিং সহজ হয়ে যায়, যেমন আজান করেছে।’
ব্যাটিংয়ের প্রথম ঘণ্টায় ভালো টেকনিকের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ‘একজন ব্যাটারের প্রথম ঘণ্টার জন্য ভালো টেকনিক দরকার। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমাদের এই জায়গায় আরও ভালো করতে হবে’, বলেন সরফরাজ।
তবে ম্যাচের ফল নিয়ে এখনই হাল ছাড়তে রাজি নন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। ক্রিকেটে অপ্রত্যাশিত অনেক কিছুই ঘটে উল্লেখ করে বাকি তিন দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন তিনি।
সরফরাজ বলেন, ‘ক্রিকেটে অদ্ভুত অনেক কিছুই ঘটে, তাই আমি এখনও আশাবাদী। আমাদের সামনে আরও একটি ইনিংস আছে। যদি পরের ৭০ থেকে ৮০ রানের মধ্যে তাদের অলআউট করতে পারি এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ রানের মতো লক্ষ্য তাড়া করতে পারি, তাহলে সুযোগ থাকবে।’
তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টেও ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে বড় ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। ইনিংস ও ১০৩ রানের সেই পরাজয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরফরাজের মতে, বারবার ব্যাটিং ব্যর্থতাই দলের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন ওপেনার আজান আওয়াইস। ৮ রানে থাকার সময় স্লিপে হ্যারি ব্রুকের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়ার পর দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ৪৬ রান করেন তিনি।
আজানের ৪৬ রানের পর পাকিস্তানের আর কোনো ব্যাটার বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। সৌদ শাকিলের ১৬ রান ছিল দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব