গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর শিমুলতলী এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক অটোচালককে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত অটোচালকের নাম আতা মিয়া (৬০)। এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে তার বৃদ্ধা মা জহুরা খাতুনের (৭৫) স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত আতা মিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাটনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুল কাদিরের বড় ছেলে।
শুক্রবার (২১ আগষ্ট) সকাল সাড়ে এগারোটায় নিহত আতা মিয়ার মায়ের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন করা হয়। নিহতের লাশ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে ময়নাতদন্তের পর নিজ বাড়িতে জানাযা শেষে বাবা- মায়ের কবরের পাশেই দাফন করা হয়।
আতা মিয়ার জানাযায় হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। সহজ সরল এই মানুষটির মরদেহ একনজর দেখতে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও দূর দূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসেন।
জানাযায় অংশ নেয়া দলমত নির্বিশেষে মুসুল্লিদের একটাই দাবি জানান, অটোচালক আতা মিয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়। এছাড়াও সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ হোন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট ) সন্ধ্যার পর উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি মেঠোপথের নির্জন স্থানে ঘাতকরা তাকে এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তার পাশে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চারজন ঘাতককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও পরিবারের সদস্যদের দাবী ঘাতকদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবং ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মায়ের মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব