বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা ও পরবর্তী ঘটনাবলি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের কাছে রোগীর চিকিৎসা ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর(২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার সময় পরিবারের একজন সদস্য আব্দুল মালেক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রোগীর প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকায় পরিবারের সদস্যরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ না করে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে এবং কী কারণে এমনটি ঘটেছে, সে বিষয়ে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাছে প্রশ্ন করেন।
পরিবারের অভিযোগ, এ নিয়ে প্রশ্ন করার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তাদের ওপর আকস্মিকভাবে হামলা চালানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পরিস্থিতি দেখে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বহিরাগত ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ কয়েকজনের হামলায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসককে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বা বিনা কারণে প্রথমে মারধর করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে কে প্রথম আক্রমণ করেছে, তা বোঝা সম্ভব বলে দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, ঘটনার ৫৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে আহতদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তাদেরকেই উল্টো দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা পরিবারের।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আহত স্বজনদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র, ছবি ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা অনেকটাই পরিষ্কার হবে।
তবে তারা কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ পোষণ করেন না বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার না করে হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরিবারের দাবি, সংকটাপন্ন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে তার চিকিৎসা নিয়ে স্বজনদের মনে প্রশ্ন বা অভিযোগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা হলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসন, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও দেশের জনগণের কাছে তারা কয়েকটি দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সময়ের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা, আহতদের চিকিৎসা প্রতিবেদন যাচাই এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
এছাড়া কে প্রথম হামলা করেছে এবং পরবর্তীতে কারা হামলায় অংশ নিয়েছে, তা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন পরিস্থিতির শিকার না হওয়ার নিশ্চয়তাও চাওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তুলে ধরা এবং দেশের জনগণকে প্রকৃত ঘটনা জানার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রান্তের মা নাজনিন আক্তার, নাফিউর এর স্ত্রী মিতু খাতুনসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব