| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ায় ফের খুলে দেওয়া হলো ১৬ জলকপাট

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ইং | ১৯:৩৩:৩০:অপরাহ্ন  |  ৪০৯ বার পঠিত
কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ায় ফের খুলে দেওয়া হলো ১৬ জলকপাট

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা আবারও বাড়তে থাকায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট পুনরায় খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে স্পিলওয়ের প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রয়েছে ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়া ও ভাঙন দেখা দেওয়ায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে জলকপাটগুলো পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে ১০৬ দশমিক ০১ ফুট এমএসএল-এ পৌঁছালে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়।

পরবর্তী সময়ে হ্রদের পানির উচ্চতা আরও বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে জলকপাট খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে প্রতিটি গেট ৩ ফুট পর্যন্ত খুলে দেওয়া হলে স্পিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়।

পরে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমে আসায় স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টানা পানি বাড়তে থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গেটগুলো আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, “বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

কর্তৃপক্ষ জানায়, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। ফলে হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯৫৬ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবেই তৈরি হয় কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। একই বছর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৬২ সালে তা শেষ হয়।

কাপ্তাই বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ বা স্পিলওয়ে রয়েছে। এই স্পিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রটিতে ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ ও ২ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হয়। পরে ১৯৬৯ সালে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। সবগুলো ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪