| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জব্দকৃত নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ ধ্বংস না করে এতিমখানায় বিতরণ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ইং | ২২:১৯:১৫:অপরাহ্ন  |  ৫৮৬৮ বার পঠিত
জব্দকৃত নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ ধ্বংস না করে এতিমখানায় বিতরণ

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ। পরে জব্দ করা ওই মাছ স্থানীয় একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। নিষিদ্ধ প্রজাতির মাছ জব্দের পর এভাবে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কীভাবে এবং এর পেছনে কোনো লিখিত অনুমোদন ছিল কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জয়পুরহাট সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচশিরা বাজারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ২০ কেজি পিরানহা মাছ জব্দ করা হয়।

পরে জব্দ করা মাছ পাঁচশিরা মজিদিয়া হিফজুল কোরআন একাডেমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দেওয়া হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিশ্চিত করেছেন।

জব্দ করা মাছ বিতরণের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৮৫-এর বিধি ১৬-এ পিরানহা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি মৎস্য দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যেও পিরানহা আমদানি, পোনা উৎপাদন, চাষ, পরিবহন, বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে জব্দকৃত দ্রব্যের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের সংশোধনীতে বিলিবন্দোবস্ত, নিলাম বা ধ্বংসের বিধান রয়েছে বলে মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রকাশিত আইন-বিধির তালিকায় উল্লেখ আছে। ফলে প্রশ্ন হচ্ছে—পাঁচশিরা বাজার থেকে জব্দ করা পিরানহা কোন বিধি বা অনুমোদনের ভিত্তিতে এতিমখানায় বিতরণ করা হলো এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ ছিল কি না। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালাই উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পিরানহা খেলে ক্ষতির কিছু নেই, তবে পরিবেশের জন্য ঝুঁকি থাকায় সরকার এটিকে নিষিদ্ধ করেছে। বিষয়টি নিয়ে এত আলোচনা তিনি কালাইয়ে এই প্রথম দেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

তবে জব্দ করা মাছ এতিমখানায় বিতরণের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন বা নির্দেশনার কোনো নথি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি বিস্তারিত জেনেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রত্যেক দপ্তরের নিজস্ব আইন ও বিধি রয়েছে। মৎস্য দপ্তর মাছ ধ্বংস না করে এতিমখানায় দিয়েছে—এটি মূলত অপচয় রোধের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে—নিষিদ্ধ প্রজাতির মাছ জব্দ করার পর তা বিতরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটির পেছনে কোনো লিখিত আদেশ বা অনুমোদন ছিল কি না।

কারণ সরকারি নথিতেই পিরানহা নিষিদ্ধ প্রজাতি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, আবার জব্দকৃত দ্রব্যের নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত বিধানও রয়েছে। ফলে পাঁচশিরার ঘটনায় জব্দ, নিষ্পত্তি ও বিতরণ—তিনটি ধাপেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এখন আলোচনায়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪