| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কপাল পুড়ল অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীর

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৯, ২০২৬ ইং | ১১:২৬:০৬:পূর্বাহ্ন  |  ৫৯৮ বার পঠিত
কপাল পুড়ল অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীর

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার এবং অনুমোদিত ছুটির আগেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকাকালে টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুই দিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি ছিল। পাশাপাশি ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটিও মঞ্জুর করা হয়েছিল।

তবে অনুমোদিত সময়ের আগেই ১৩ নভেম্বর পূর্বাহ্নে কোনো প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করে তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিনই নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন তিনি। পরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তী এর আগেও একাধিকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। তার এ কর্মকাণ্ড জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি জবাব দেওয়ার সময় বাড়ানোর জন্যও কোনো আবেদন করেননি।

পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ৭ মে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১৬ জুন টুটুল চক্রবর্তীকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এতে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু দ্বিতীয় নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি। এরপর কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়।

পরবর্তী সময়ে গত ২৩ জুলাই এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে মত দেয়।

এরপর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে গত ৫ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়া এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিধি অনুযায়ী এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

টুটুল চক্রবর্তীর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ চাকরিজীবনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া তিনি সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ৩১ মে পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিপিএম পদক লাভ করেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের ঘটনায় শুরু হওয়া বিভাগীয় তদন্ত শেষ পর্যন্ত চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তে গড়িয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪