| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা হতে যাচ্ছে কাতার

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৮, ২০২৬ ইং | ১৮:৪৩:২৪:অপরাহ্ন  |  ১০২৫৯ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা হতে যাচ্ছে কাতার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে কাতারের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতার এখন যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা হতে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি জ্বালানি কোম্পানি চেনিয়ার ও উডসাইড এনার্জি এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে বছরে মোট ৭ মিলিয়ন টন (৭০ লাখ টন) এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার।

ইরান যুদ্ধের কারণে কাতারের এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলার বা ২০০০ কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।

কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি এখন হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে নিজেদের সরবরাহব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে।

যুদ্ধ কাতারের এলএনজি পরিকল্পনা পাল্টে দিয়েছে

ঘটনাটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান যুদ্ধের আগে কাতার ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এ দশকের শুরুতে কাতারকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক হয়ে ওঠে।

কিন্তু যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি কাতারের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। কাতারের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি এখন মার্চ মাসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি স্থাপনাগুলো মেরামতের চেষ্টা করছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে: কাতারের রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বছরে আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

যুদ্ধের সাত মাস পরও কাতার হরমুজ প্রণালি দিয়ে খুব অল্পসংখ্যক এলএনজি জাহাজ চলাচল করতে পারছে। ফলে দেশটির উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তিতে ফোর্স মেজর ঘোষণা

পরিস্থিতির কারণে কাতার এনার্জি কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত  ফোর্স মাজ্যুর ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।

ফোর্স মাজ্যুর হলো এমন একটি আইনি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা গুরুতর পরিস্থিতির কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান চুক্তির নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি অব্যাহতি চাইতে পারে।

এতে কাতারের কয়েক দশকের নির্ভরযোগ্য এলএনজি সরবরাহকারীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে কাতারে এনার্জি এশিয়া ও ইউরোপে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ফোর্স মাজ্যুর-এর মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত করেছে।

সম্পর্কিত খবর: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইএ সতর্ক করেছে, বিশ্বব্যাপী গ্যাসের সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

পাইপলাইনের মাধ্যমে এলএনজি পরিবহন সম্ভব নয়

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী এবং কাতার এনার্জি-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবি সেপ্টেম্বর মাসে বলেছেন, তেলের মতো এলএনজি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি পরিবহন করা যায় না।

নিউইয়র্কে কাতার ইকোনোমিক ফোরামের বিশেষ অধিবেশনে তিনি বলেন: আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য এলএনজি পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহন করা সম্ভব নয়। গ্যাস হিসেবে পাইপলাইনে পাঠিয়ে গন্তব্যস্থলের রিসিভিং টার্মিনালে সেটিকে তরলীকরণ করতে হবে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, এ ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কাতারের বিদ্যমান নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণ প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।

এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে এবং বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসংগত নয়।

তাই আপাতত পাইপলাইনকে বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার।

তবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কাতার স্বাভাবিক উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ফিরতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন আল-কাবি।

যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান হয়ে বিকল্প সরবরাহের চেষ্টা

হরমুজ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় কাতার এখন বিকল্প পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। আল-কাবি বলেন: কিছু চালান ইরান হয়ে পাকিস্তানের পথে যাচ্ছে, আবার কিছু যুক্তরাষ্ট্রের পথ ধরে অন্যান্য গন্তব্যে যাচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে খুব অল্পসংখ্যক জাহাজ চলাচল করতে পারছে। অর্থাৎ, কাতার এখন এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে তাদের প্রধান রপ্তানি পথ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় গত মাসে কাতার এনার্জি যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি কেনার চুক্তি করেছে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪