| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আসামের গোয়ালপাড়ায় উচ্ছেদ অভিযান: পুলিশের গুলিতে নিহত ১, আহত ৪

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৭, ২০২৫ ইং | ১১:৪২:৫৬:পূর্বাহ্ন  |  ১৬৪২৯১০ বার পঠিত
আসামের গোয়ালপাড়ায় উচ্ছেদ অভিযান: পুলিশের গুলিতে নিহত ১, আহত ৪

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : আসামের গোয়ালপাড়া জেলার বেতবাড়ি গ্রামের ১৯ বছর বয়সী এক যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন এবং অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার পাইকান রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় গ্রামবাসীদের চলমান উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই উচ্ছেদ অভিযান মূলত মুসলিম পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। নিহত তরুণের নাম সাকুয়ার আলী। ২৭ বছর বয়সী কাসিমুদ্দিন গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

গত ১২ জুলাই রাজ্য প্রশাসন, পাইকান রিজার্ভ ফরেস্টের জমি দখল করে আছে এই দাবি করে এলাকার ১,০৮০টি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে। স্থানীয়রা এই দাবি অস্বীকার করে এবং অভিযোগ করে যে এটি একটি রাজস্ব গ্রাম। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা মূলত পূর্ববঙ্গীয় মুসলিম, যারা একসময় তাদের জন্য ব্যবহৃত অপমানজনক শব্দ 'মিয়া'কে ফিরিয়ে এনে নিজেদের 'মিয়া মুসলিম' বলে পরিচয় দেন।

উচ্ছেদ অভিযানের পর অনেক বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও, অনেকে থেকে গেছেন এবং অস্থায়ী ত্রিপলের তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। যারা থেকে গেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই পরের কয়েকদিন ধরে তাদের ভেঙে ফেলা বাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে লোহার রড, ইট এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ বারবার তাদের স্থান ত্যাগ করার জন্য চাপ দিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকটি অস্থায়ী আশ্রয় ভেঙে দিয়েছে এবং তাদের জিনিসপত্র নষ্ট করেছে।

আসুদুবি রাজস্ব গ্রামের ২৭ বছর বয়সী আবুল কালাম, উচ্ছেদ অভিযানে তার বাড়ি হারিয়েছেন এবং তখন থেকে গ্রামের একটি অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। তিনি বলেন যে "হাজার হাজার পুলিশ সদস্যকে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল" এবং "এখনও কারফিউ-এর মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে।" অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্টস' ইউনিয়ন (আমসু ) এবং ছাত্র মুক্তি সংগ্রাম সমিতি (এসএমএসএস)-এর সদস্যরাও এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছিলেন।

একজন ৩৫ বছর বয়সী বাসিন্দা, যিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, বলেন, "যখন আমরা খননকারীকে থামানোর চেষ্টা করছিলাম, তখন পুলিশ আমাদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করে।" আমসু নেতা আনিমূল ইসলামও পুলিশের লাঠিচার্জের কথা বলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাসিন্দা বলেন, "আমরা যখন রাস্তার পাশের মাঠে পৌঁছলাম, তখন তারা গুলি চালাল। আমি আমার চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে লোকজনকে লুটিয়ে পড়তে দেখলাম।"

বাসিন্দারা আরও দাবি করেছেন যে প্রশাসন ত্রাণবাহী যানবাহনগুলিকে উচ্ছেদস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিছু বাসিন্দার মতে, বন কর্মকর্তা জগদীশ বর্মন নাকি বলেছেন, "আমি আমার নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে হলেও তোমাদের সবাইকে গুলি করে মেরে ফেলব।" 

কাসিমুদ্দিন ছাড়াও আমির হামজা (৩০), সাইফুল আলী এবং আক্কাস আলী আহত হয়েছেন, অভিযোগ উঠেছে পুলিশের হাতে।এসএমএসএস নেতা আল মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, "উচ্ছেদ অভিযানের নামে মিয়া মুসলিমদের উপর এটি একটি অমানবিক হামলা।"


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪