স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সাবেক বিএনপি নেতা মো. ছলিম উল্লাহ লাভলু হত্যায় জড়িত অটোরিকশা চালক মো. বাবুকে (৩৯) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার চাঁদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে ২৯ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চাঁদপুরের পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির বাবুর ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে বুধবার রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ২৮ আগস্ট নবুরকান্দি শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবুকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর জেলা পিবিআই। র্দীঘ প্রায় তিন বছর ধরে পলাতক থাকার পর তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১ নভেম্বর রাতে খাবার খেয়ে মান্দারতলী বাজারে তার মালিকানাধীন স’মিলে রাত্রীযাপনের জন বাড়ী থেকে বের হন। পরদিন ভোরে মান্দারতলী এলাকার সড়কের পাশ থেকে লাভলুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের বড় ভাই আহসান হাবিব বাদি হয়ে মতলব উত্তর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
নিহত লাভলুর ভগ্নিপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, মতলব উত্তর উপজেলার ফতেহপুর পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লাভলু। এছাড়া ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ইউপি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীও ছিলেন তিনি। নির্মমভাবে লাভলুকে হত্যার পর তার লাশ অটোরিকশায় করে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায় বাবু। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি থানা পুলিশ উদ্ধার করতে পারলেও অটোচালক বাবুকে ধরতে পারেনি। দীর্ঘ তিন বছর পর বাবুকে পিবিআই গ্রেপ্তার করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, মামলার বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছে। বাবু পেশায় অটোরিকশা চালক। বাবুকে গ্রেপ্তারের পর তাকে বাঁচাতে বাকি আসামিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আদালতে বাবু পক্ষে প্রায় ১০ থেকে ১১ জন উকিলকে দাঁড়াতে দেখা গেছে। বাবুর পক্ষের লোকজন আগেভাগেই বলে বেড়াচ্ছে, বাবুকে দিয়ে স্বীকারোক্তি নিতে না পারে আমরা আগেই ব্যবস্থা করে রেখেছি। মূল আসামি মাসুদ গংরা এখনো বিভিন্ন ভাবে মামলার বাদীপক্ষকে হুমকি ধামকি দিয়েই যাচ্ছেন।
হানিফ বলেন, হত্যার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল না হওয়ায় মামলাটি কার্যত অচল হয়ে আছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর লাভলুর ভাতিজা খবির জমিতে ধান রোপন করতে যান। এসময় লাভলু হত্যায় জড়িত আসামিরা তাকেও নির্মম ভাবে হত্যা করে। বাদীপক্ষ মামলার খোঁজ খবর নেয়ার জন্য চাঁদপুর যেতে ভয় পাচ্ছে। মামলার আসামিদের পেছনে শুরু থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের হাত থাকায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বলে জানান হানিফ। নিহত লাভলু এলাকায় খুবই জনপ্রিয় ছিলো।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির বলেন, লাভলু হত্যায় বাবুকে ২ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। রোববার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হবে।