নিউজ ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকে লড়ছেন একমাত্র নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক।
আসন্ন রাকসু নির্বাচন সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে রাকসু নির্বাচনকে ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তাসিন বলেন, ‘সব থেকে বড় ঝুঁকি হচ্ছে নিরাপত্তা ইস্যু। আমরা দেখছি ছাত্র সংসদের নির্বাচন এমন ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে যেন ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের ম্যাচ চলছে। এটাকে একটা ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণত করা হচ্ছে। ফলে আমাদের নিরাপত্তার ইস্যু আরও বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা এমন নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা মেধাবী, তাদের নিজেদের প্রতিনিধিত্ব তারা নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করবে। কারা তাদের ভালো করতে পারবে তাদেরই তারা নেতৃত্বে নিয়ে আসবে।’
নারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে, নারী হিসেবে না। রাকসু নির্বাচনের ৬৩ বছরের ইতিহাসে আমিই প্রথম নারী প্রার্থী। এটিতে সাড়া পড়েছে নির্বাচনে। আমার বন্ধুবান্ধব, বড় ভাই-ছোট ভাইদের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। তাদের অনুপ্রেরণায় আমার এগিয়ে যাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ খুবই হতাশাজনক। এর কারণ হচ্ছে, প্রশাসন বারবার বলেছিল তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখিনি। অনেকেই আশঙ্কা থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। সেই জায়গা থেকে আমি অংশগ্রহণ করেছি, সেটাই মুখ্য বিষয়। আমি গত জুলাই আন্দোলনে একজন সমন্বয়ক হিসেবে ছিলাম। সমন্বয়ক পরিষদে যখন আমার নামটা লেখাই, আমার জীবনটা সম্পূর্ণ দেশের জন্য রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি। সেই জায়গা থেকে আমার কাছে ভয়গুলো অনেক ছোট মনে হয়েছে। রাকসুতে আমার চিন্তা ভাবনা থেকে কিছু করে যেতে পারবো, সেজন্যই নির্বাচনে দাঁড়ানো।’
রাকসু নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব প্রসঙ্গে একমাত্র নারী ভিপি প্রার্থী বলেন, ‘রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক যেটাই বলি, আসলে আমরা সবাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। যাদের রাজনৈতিক সাপোর্ট আছে তাদের পরামর্শের জন্য মানুষ আছে বা তাদের বিশাল অঙ্কের টাকা আছে। আমরা সেদিক থেকে চাপ অনুভব করছি, কারণ আমাদের চিন্তা-ভাবনাগুলো নিজেদেরকেই নিতে হচ্ছে। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। প্যানেল গোছাতে গিয়ে আমাদের অনেক পরিশ্রম গেছে। আর টাকার যে বিষয়টা, আমরা এখানে ১০০% শারীরিক পরিশ্রম করবো।’
তাসিন খান আরো বলেন, ‘আমার প্যানেল নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। আমার কাছে মনে হয় আমরা যেমনটা চেয়েছিলাম ঠিক তেমনভাবেই প্যানেল সাজাতে পেরেছি। এ প্যানেলে বিভিন্ন সংগঠনের ও প্রথম সারির জুলাইযোদ্ধারা আছে। আমরা ভালো পদগুলোতে যোগ্য মানুষ নিতে পেরেছি। যদি আমরা ১০০ শতাংশ দিতে পারি আর যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তাহলে আমাদের বিজয় সম্ভব।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব