স্টাফ রিপোর্টার: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেছেন, ‘৫৩ বছর ধরে আমরা প্রহসনের নির্বাচন দেখে আসছি। দিনের ভোট রাতে বাক্সবন্দি, কেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক জয় ছিনিয়ে নেওয়া– এ সংস্কৃতি আমরা আর চাই না। এই পদ্ধতি বহু মায়ের বুক খালি করেছে, বহু জীবন পঙ্গু করেছে।’
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর আয়োজিত কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা শীর্ষক সিরাত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন ঢাকা-১০ আসনে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত হলে আগামীকালই নির্বাচন দিলেও আপত্তি নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, ‘আমরা এমন পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই যার মাধ্যমে আর কোনো ফ্যাসিস্ট জন্ম নেবে না। সেই পদ্ধতি হলো পিআর। এই সরকারের প্রধান তিনটি অঙ্গীকার ছিল। সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত হলে আগামীকালই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেন।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হয় নাই। বরং দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হতে দেখেছি আর হাজার কোটি টাকা পাচার হতে দেখছি। হাসিনার আমলে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের বর্বরতা দেখেছি। ৫ আগস্ট আমাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যায় নাই, বিচারও দৃশ্যমান না। এমন বাস্তবতায় পুরোনো বন্দোবস্তের নির্বাচন নিয়ে এতো মাতামাতির অর্থ কি? আমাদের দাবি স্পষ্ট। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। না হলে জুলাই বিপ্লবীদের ফাঁসির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।’
প্রেসক্লাবের কনফারেন্সে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতি কোনো মন্ত্রিত্ব বা এমপিত্বের জন্য নয়। আমাদের লক্ষ্য– বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা আর সেই কল্যাণ রাষ্ট্রের নীতি হলো ইসলাম। ৫ আগস্টের পর ভারতের মিডিয়ায় সংখ্যালঘুদের নিয়ে যখন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হচ্ছিল, তখন ইসলামী নীতি-আদর্শে বিশ্বাসীরাই তাদের জানমাল, ইজ্জত ও উপাসনালয় রক্ষায় পাহারার দায়িত্ব নিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। বলা হয়, আমরা নাকি হঠাৎ কোথা থেকে এলাম। অথচ গত ১৫ বছরে আমাদের একজন এমপিও সংসদে যাননি। এর মানে এই নয় যে আমাদের সুযোগ ছিল না। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি—সবাই আমাদের ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ আমাদের লক্ষ্য এমপি-মন্ত্রী হওয়া নয়, বরং দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করা।
প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল-মাদানী, ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমদ সাকী এবং জাতীয় ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবু মোহাম্মদ রহমানি।
ঢাকা-১০ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে হাজারীবাগ ট্যানারি মোড়ে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও যুগ্মমহাসচিব মাওলানা ইমতেয়াজ আলম, যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ ও কে এম শরীয়াতুল্লাহ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব