সিনিয়র রিপোর্টার : পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বলেন, দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসব। মানুষ যেন ভয়ভীতি ছাড়াই আনন্দের সঙ্গে পূজা করতে পারে, সে জন্য সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উৎসব ঘিরে সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। পুলিশের দায়িত্ব হলো সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পুরান রাজধানীর বাংলাবাজার এলাকার একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন পূজা ঘিরে কোনো ধরনের হুমকি ফিল করছি না। কিন্তু আপনারা জানেন, ছোটখাটো ঘটনা সারাদেশেই ঘটে থাকে। এবার আমাদের কাছে মনে হচ্ছে অনেকগুলো ঘটনাই ঘটছে তুচ্ছ কারণে। বিশেষ করে এই প্রস্তুতি পর্বে অনেক জায়গায় শোনা যাচ্ছে- কেউ গিয়ে (প্রতিমার) হাত নষ্ট করে দিচ্ছে, মাথাটা নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এগুলোর খবর পাচ্ছি। খবর পাওয়া মাত্রই সাথে সাথে আমরা সেটা সমাধান করতে যাচ্ছি। কোনোভাবেই কোনোকিছু আমরা অবজ্ঞা বা অবহেলা করছি না। বিচ্যুতি যদি কোথাও দেখি তাহলে অবশ্যই প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা মামলাও নিয়ে নিচ্ছি।
বাহারুল বলেন, ‘অনেক সময় হয় কী, কাউকে যখন আমরা গ্রেপ্তার করি তখন তার পক্ষের লোক বলে লোকটা পাগল, এই-সেই। এবার প্রতিটি জিনিস আমরা যাচাই করে দেখছি। আমরা এখানে এসে যা দেখলাম, সম্পূর্ণ কমিউনিটি যেভাবে একত্রিত হয়েছে, আমি মনে করি আমাদের কোনো থ্রেট এখন আর নাই।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের নাশকতা বা বাধা সৃষ্টি করতে পারে কি না- জানতে চাইলে আইজিপি আরও বলেন, এই বিষয়টা আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আপনারা জানেন যে পূজা উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূজা কমিটির সব নেতারা গিয়েছিলেন। এরপর পুলিশ সদর দপ্তরেও পূজা কমিটির অনেকেই গিয়েছিলেন। আমরা এই আশঙ্কাটা মাথায় রেখেছি এবং সেজন্য আগের থেকে চেষ্টা করছি গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে এ তথ্যগুলো সংগ্রহ করার জন্য। এ আশঙ্কাটা আমরা উড়িয়ে দিই না। কিন্তু এর জন্য আমরা ভীত নয়, মোটেও ভীত নয়।
তিনি বলেন, বুধবার শহরের ভেতরে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি বেশ বড়সড় একটা শক্তি প্রদর্শন করতে চেয়েছিল। আমরা চেষ্টা করেছি আইনগতভাবে তাদের প্রতিরোধ করতে, দমন করতে। আমরা সেটাই করেছি।
পুলিশ কাজ করতে গিয়ে কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে কি না জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, পুলিশ কাজ করতে গিয়ে কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে না। একটা বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে আমাদের অনেক কিছু বিচার-বিবেচনা করে চলতে হয়। আমরা একটা আইডিয়াল পরিস্থিতিতে যেভাবে আইন প্রয়োগ করি, সেটা সব সময় সম্ভব হয় না। আমাদের সমাজের সব মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করে তারপর আইন প্রয়োগ করতে হয়। আমাদের মূল উদ্দেশ্যটাই থাকে যেন আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি/ধ্রুব