ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ায় বাবাকে মাঠ থেকে ডাকতে গিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বজ্রপাতে ইমন মোল্লা (১৫) নামে একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। ইমন উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ও পার্শ্ববর্তী রাজৈর উপজেলা শারিস্তাবাদ গ্রামের কালাম মোল্লার ছেলে।
গ্রামবাসী জানায়, বিকেল থেকে মেঘের ঘনঘটা শুরু হয়ে ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচন্ড বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। আকাশে বজ্রপাত দেখে মাঠে কাজ করতে যাওয়া বাবাকে ডাকতে যায় ইমন। বাড়ি থেকে বেড়িয়ে কিছু দূর এগিয়ে গেলে ইমনের সামনে বজ্রপাত ঘটে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল থেকে ইমনের মৃতদেহ দাফন কাফনের উদ্দেশ্যে বাড়িতে নিয়ে গেলে গোসল করার সময় হঠাৎ নড়েচড়ে বসে মৃতদেহ। জীবীত রয়েছে মনে করে স্বজনরা পুনরায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ও পরে জীবিত হওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কালাম মোল্লার গ্রামের বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বজ্রপাতে নিহত ইমনকে দাফন করা হয়েছে চোখের জলে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার তানসিভ জুবায়ের বলেন, ইমনকে ভাঙ্গা হাসপাতালে নিয়ে আসলে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে মৃত ঘোষণা করা হয়। বজ্রপাতে কেউ মারা গেলে তার শরীর গরম মনে হলে সে জীবিত রয়েছে এটা গ্রাম্য লোকজনের ভুল ধারণা। মেডিকেল সাইন্স কখনও এটা কখনও বলতে পারে না বা বলার সুযোগ কম।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস