মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের শিবচরে রানু বেগম (৬০) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূলহোতা রাসেল মাহমুদ সবুজকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পাঁচ্চর চরকান্দি এলাকা থেকে র্যাব-৮ সদস্যরা তাকে আটক করে। শুক্রবার ভোরে র্যাব পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার রাসেল ঢাকার শেওড়াপাড়া এলাকার মৃত কাজী কেরামত আলীর ছেলে। তিনি নিহত রানু বেগমের ঘরের একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। প্রায় নয় মাস আগে তিনি রানু বেগমের বাড়িতে ওঠেন।
র্যাব জানায়, ভাড়া থাকাকালীন একবার ওই বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এতে রানু বেগম তাকে সন্দেহ করতে শুরু করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেদিন রাতে রান্নাঘরে গোপনে অবস্থান নিয়ে রাত ১১টার দিকে ঘরে ঢুকে রানু বেগমের হাতে ও গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। পরে ঘর থেকে দুটি মোবাইলফোন, কানের দুল, রাইস কুকার, কাপড় ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যান।
জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, লুট করা কানের দুল ও একটি মোবাইলফোন ইতোমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে শিবচরের উমেদপুর ইউনিয়নের কাঁচিকাটা এলাকায় রানু বেগমের রক্তাক্ত লাশ নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নারী ওই এলাকার মৃত সাদেক হাওলাদারের স্ত্রী। তিনি একা থাকতেন। তাঁর একমাত্র ছেলে ঢাকায় চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। ঘটনার দিন সকালে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ না পেয়ে ছেলে প্রতিবেশীদের জানান। পরে তারা বাইরে থেকে ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় পেয়ে জানালা দিয়ে ভেতরে লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে খোকন হাওলাদার বাদী হয়ে শিবচর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মীর মনির হোসেন বলেন, ‘মামলার পরই আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। গোপন তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।’
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা