রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : সাভারের আশুলিয়ায় ছয় তরুণকে গুলি করে হত্যা ও পরে লাশ পুড়িয়ে ফেলার সেই নৃশংস ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ এগোচ্ছে ১১তম দিনে। আলোচিত এই মামলায় একের পর এক সাক্ষ্য ও জবানবন্দিতে উঠে আসছে রোমহর্ষক তথ্য।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ দিনে অনিকসহ দুইজনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। তার আগের দিন, ২৪ সেপ্টেম্বর, প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলামের জেরা শেষে নেওয়া হয় অষ্টম সাক্ষীর জবানবন্দি। এর আগের দিন, ২৩ সেপ্টেম্বর, শফিকুল ছিলেন সপ্তম সাক্ষী। সেদিনই আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মতিবর রহমানও সাক্ষ্য দেন।
১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। প্রথম দিনের (১৫ সেপ্টেম্বর) মতোই ওই দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান।
১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ঘটে এক বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড।’ এরপর ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
উপস্থিত আট আসামির সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক অপরাধ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানান। পরবর্তীতে আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক সাভার সার্কেল এএসপি শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনও পলাতক। গত ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন, যেখানে অন্তর্ভুক্ত হয় ৬২ জন সাক্ষীর নাম, ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্য, ১৬৮ পৃষ্ঠার প্রমাণাদি ও দুটি পেনড্রাইভ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন ছয় তরুণ। পরে তাদের লাশ পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। একজন তখনও জীবিত ছিলেন, কিন্তু তাকেও পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম