রিপোর্টার্স ২৪ ডেস্ক: ফায়ার সার্ভিস ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) আগুনে ভষ্মীভূত কারখানা ভবনটির অগ্নি নিরাপত্তার কার্যকারিতা সনদ নেই। অগ্নি নিরাপত্তা সনদের জন্য কর্তৃপক্ষ আবেদন করলেও, পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম শেষ করা হয়নি। এছাড়া ভবনটি নির্মাণে বিল্ডিং কোডের নিয়মও মানা হয়নি ।
শুক্রবার সকালে পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স)।
ফায়ার সার্ভিসের এই পরিচালক জানান, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে একটি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে; এই কমিটি প্রতিবেদন জমা দিতে ১৫ কার্য দিবস সময় পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সিইপিজেড এলাকায় ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের আটটলা ভবনের সাততলার অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জিহং মেডিকেল কোম্পানি নামের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অ্যাডামস ক্যাপ নামের প্রতিষ্ঠানে টাওয়েল ও ক্যাপ এবং জিহং মেডিকেল সার্জিকেল গাউনসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করে। তবে ভবনটির অষ্টম তলা খালি ছিল। সেখানে টিনের সিলিং দেওয়া ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়,বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে লাগা আগুন শুক্রবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ভবনে যখন আগুন লাগে তখন দুপুরের খাবারের বিরতি থাকায় কারখানার শ্রমিকরা বেশিরভাগই তখন ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন।
কারখানার কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, আগুন জ্বলার সময় ‘ভবনে কোন শ্রমিক ছিল না’। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, নীতিমালা না মেনে ভবনটির চারটি ফ্লোরে পণ্য গুদামজাত করা হয়েছিল।“যেসব পণ্য পুড়ে রাসায়নিকে পরিণত হয়। যাতে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।”
তিনি বলেন, “ভবনটি মিশ্র ব্যবহারের। প্রথম তিনতলা অ্যাডামস ক্যাপসের। পরের চারটা ফ্লোরই ছিল স্টোর। স্টোরের যে প্রিন্সিপাল তা রক্ষা করে করা হয়নি। এখানকার প্রোডাক্টগুলো পুড়ে আরেকটা রাসায়নিক এজেন্টে পরিণত হয়েছে।
“সেখানে ডাক্তারদের অ্যাপ্রন, মেডিকেল গাউনসহ অনেক কিছু ছিল। এটা রাসায়নিক কারণে পুড়েছে অনেকক্ষণ ধরে। আপনারা আগুনের শিখা যদি খেয়াল করেন, তাহলে দেখতে পাবেন শিখা নীলাভ ছিল। ফুয়েল এত বেশি ছিল যে পুড়ে ক্ষয়প্রাপ্ত পর্যায়ে আসতে অনেক সময় লেগেছে। খুব অল্পতেই ডেভেলপ স্টেজে ছিল। যার কারণে আমাদের খুব বেগ পেতে হয়েছে।”
আগুনের কারণ অনুসন্ধানে একটি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “এটা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কারণ বলতে পারছি না। কমিটিকে ১৫ কার্য দিবস সময় দেয়া হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে।
“এখানে কোন মৃত্যু বা আহত নেই। এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। কোন ধরণের ক্যাজুয়ালটি হয়নি।”
রিপোর্টার্স২৪/এসসি