রিপোর্টার্স ২৪ ডেস্ক : আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে আমদানি ও রপ্তানির ছাড়পত্র তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। ফলে তোরখাম, গুলাম খান, খারলাচি এবং আঙুর আড্ডা সীমান্তপথে সব ধরনের বাণিজ্য আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। পাকিস্তানের ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ (এফবিআর) জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সীমান্তের বেশিরভাগ কর্মকর্তা সদর দপ্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় বাণিজ্য শুরু করা হবে।
এই সিদ্ধান্তে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। সীমান্ত দিয়ে বছরে প্রায় ২৩০ কোটি ডলারের পণ্য আদানপ্রদান হয়। আফগানিস্তান থেকে ফল, সবজি, ধাতু, ওষুধ, গম, ধান, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত দ্রব্য আমদানি করে পাকিস্তান। বাণিজ্য বন্ধ থাকায় সীমান্তে আটকে পড়েছে বিপুল পরিমাণ পণ্য, অনেকটাই ইতিমধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে।
এর প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। বিশেষ করে টম্যাটোর দাম ৪০০ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০০ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে। আফগানিস্তান থেকে আপেল আমদানি বন্ধ থাকায় তার দামও আকাশছোঁয়া।
এদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এক ভিডিও বার্তায় টিটিপি নেতা আহমদ কাজিম মুনিরকে উদ্দেশ করে বলেছেন, “জওয়ানদের ভেড়ার মতো মরতে পাঠাচ্ছেন, সাহস থাকলে আমাদের মুখোমুখি আসুন।” ভিডিওটিতে ৮ অক্টোবরের জঙ্গি হামলার দৃশ্য দেখিয়ে হামলার দায়ও স্বীকার করেছে সংগঠনটি। ওই ঘটনায় পাকিস্তানি সেনার ১১ সদস্য নিহত হন।
সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরও সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। নিরাপত্তা সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং টিটিপি-র হুমকি; সব মিলিয়ে পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সূত্র: আনন্দবাজার
রিপোর্টার্স২৪/এসসি