স্টাফ রিপোর্টার: গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের ১৩ প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘এগুলো খুব বড় কিছু, এরকম না। কিন্তু আমাদের সময়সীমা আগে ছিল ৩ মাস, এখন আছে এক মাস। কারণ এই জিনিসগুলো কেবিনেটেই করতে হবে অথবা নীতিমালা প্রণয়ন করে করতে হবে। যেগুলো নভেম্বরে পরে আর করতে পারব না। কারণ, নভেম্বরে কেবিনেট মিটিং ক্লোজ হয়ে যাবে। এরপরে নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেবে। আইন প্রণয়নের যেই জায়গাগুলো আছে সেগুলোই আগামী মাসের মধ্যে সমাধান করতে চাই। আর যেগুলো আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনার মাধ্যমে করা সম্ভব, সেগুলো করে ফেলব।’
রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তন আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্সে’ এসব কথা বলেন তিনি।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের আশুকরণীয় ২৩টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৩টি প্রস্তাব আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন উপদেষ্টা মাহফুজ। তিনি বলেছেন, ‘মোট ২৩টি প্রস্তাবনা ছিল আশুকরণীয়, যেটা এই গভর্ণমেন্টের যে সময়সীমা আছে এর মধ্যে করা সম্ভব। পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়ে যারা আছেন, আমলা এবং যারা আমাদের কর্মকর্তারা আছেন তারা মিলে পর্যালোচনা করে ১৩টি প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
ওয়ান মিডিয়া, ওয়ান হাউজ করতে পারলে ভালো হতো জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যেটা করে যেতে পারলে সবচেয়ে ভালো হতো সেটা হচ্ছে ওয়ান হাউস ওয়ান মিডিয়া। এইটা আমরা করতে পারি না। এটা করার জন্য অনেক দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। কারণ এটার সঙ্গে অনেক কিছু ইনভল্ভ, মালিকানা থেকে শুরু করে আরও বিষয়গুলো ইনভল্ভ আছে।’
সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা রোধে আইন করা যায় কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সাংবাদিকতার পরিমণ্ডল থেকে যদি ‘ব্যাড অ্যাপল’ (খারাপ মানুষ) না সরানো যায়, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন যদি থেকে যায়, তাহলে অবশ্যই সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ হবে। যারা ভায়োলেন্স করবে, আজকে যদি সুযোগ পায়, আজকেই আমাদের মেরে ফেলবে, তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে সাংবাদিক পরিচয়ে বা বিভিন্ন পরিচয়ে, বুদ্ধিজীবী পরিচয়ে। অনেকে সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী বা বিভিন্ন পরিচয়ে টেলিভিশন টক শোতে বসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ‘বড় বড় কথা বলছেন’। ওই সাহস কোথায় ছিল গত ১৫ বছরে?’
নতুন দুটি গণমাধ্যমের অনুমোদন দেওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হওয়া- এ ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয় কী ভাবছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে মাহফুজ বলেন, ‘দেশে বিকল্প গণমাধ্যম ছাড়া ‘বাকশালি ইকোসিস্টেম’ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই তিনি বিকল্প মিডিয়া দেবেন। প্রতিবেদনের কারণে যদি তাকে পদ থেকে সরেও যেতে হয়, তাহলেও তিনি নতুন মিডিয়ার লাইসেন্স দেবেন বলে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মিডিয়ায় ‘ফ্রেশ ব্লাড’ দরকার।’ যেহেতু তারা কোনো মিডিয়া বন্ধ করছেন না, তাই নতুন মিডিয়া দেবেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ, ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন প্রমুখ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব