রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে আবারও পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ১৫০ থেকে ২০০ সদস্যের একটি বৃহৎ প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
রাষ্ট্রদূত মিলার জানান, মিশন পাঠানোর চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো বাকি। তবে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে দলের একটি অংশ ভোটের প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে, আর বাকিরা ভোটের এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ইইউ বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। ভোটের সময় স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগেও আমরা সহায়তা করব।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে উভয়পক্ষ আলোচনা করেন সাংবিধানিক সংস্কার, নির্বাচন প্রস্তুতি, বিচার বিভাগ ও শ্রমখাতের সংস্কার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির সম্ভাবনা, বিমান ও নৌ পরিবহন খাতে নতুন সুযোগ, এবং মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস জানান, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় বৈশ্বিক শিপিং জায়ান্ট এ.পি. মোলার-মায়ার্সক-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।
রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ডেনমার্কের এই প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যা লালদিয়াকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক টার্মিনালে রূপ দেবে।
বৈঠকের শেষদিকে উভয়পক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ, প্রার্থীদের যোগ্যতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ ভোটপ্রক্রিয়া নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও একমত হন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম