রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে দাখিল করা আপিলের পঞ্চম দিনের শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত চতুর্থ দিনের শুনানিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বক্তব্য শেষ করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তৃতীয় দিনের (২৩ অক্টোবর) শুনানিতে ইন্টারভেনর হিসেবে অংশ নেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী।
দ্বিতীয় দিন (২২ অক্টোবর) রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। আর প্রথম দিনের (২১ অক্টোবর) মাধ্যমে এই আলোচিত শুনানির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ।
পরে এই বিষয়ে আপিল করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয় ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন। হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগে মামলাটি ওঠে। ২০১১ সালের ১০ মে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করা হয়। সরকার পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
অন্যরা হলেন, তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। এরপর ১৬ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ২৩ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও আলাদা করে আবেদন দাখিল করেন। বর্তমানে এই সব আবেদনের সমন্বিত শুনানি চলছে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম