ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : গাজায় শান্তির প্রত্যাশা যেন প্রতিবারই রক্তে ডুবে যায়। বুধবার দুপুরে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ঘোষণা দিলেও কয়েক ঘণ্টার মাথায় ফের ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় চালানো এই হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাফাহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ১০৪ জন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ওই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ‘প্রতিশোধমূলক’ জোরালো হামলার নির্দেশ দেন।
ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হামাসের অস্ত্রভান্ডার ও সিনিয়র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে হামাস বলছে, রাফাহে ইসরায়েলি সেনা নিহতের ঘটনায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই এবং তারা এখনো যুদ্ধবিরতি মানতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন হামলার জেরে এক মৃত ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিতেরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সর্বশেষ হামলার পরও যুদ্ধবিরতি ‘ঝুঁকির মুখে নেই’। মধ্যস্থতাকারী কাতার হতাশা জানালেও আলোচনার অগ্রগতিতে আশাবাদী।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বহু শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, এটি নিন্দনীয়। মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্ক একে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ আখ্যা দিয়ে শান্তি প্রচেষ্টা ‘হাতছাড়া না করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। একই আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও।
অন্যদিকে ইসরায়েল রেডক্রসের ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। হামাস এই পদক্ষেপকে বন্দিদের অধিকার লঙ্ঘন ও ইসরায়েলের নির্যাতন-নীতির অংশ বলেছে। গাজায় প্রতিটি হামলা যেন নতুন করে প্রমাণ করছে—যুদ্ধবিরতির ঘোষণা যতই হোক, বাঁচার স্বপ্ন এখনো দূর-অস্তরেই রয়ে গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম