শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়নের টেংরা গ্রামে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত বিনাধান-২২ ও ব্রি-ধান-১০৩ জাতের মাঠ পর্যায়ের কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষক পর্যায়ে নতুন উদ্ভাবিত ধান জাতগুলোর উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ড. শরিফুল হক ভূঞা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ উপ-প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, বিনা’র গাজীপুর আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. আসাদ উল্লাহ, শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা এবং উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন নাহার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আমেনা বেগম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সারোয়ার হোসাইন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নারী নেত্রীবৃন্দ ও এলাকার অসংখ্য কৃষক।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘বিনা উদ্ভাবিত ধান জাতগুলো স্বল্প মেয়াদী, রোগ প্রতিরোধক্ষম ও উচ্চ ফলনশীল। ফলে কৃষকরা একই জমিতে কম সময়ে অধিক উৎপাদন নিতে পারছেন, যা কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
তারা জানান, বিনাধান-২২ জাতটি ১০৫ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয় এবং প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ ধান উৎপাদন সম্ভব। অন্যদিকে ব্রি-ধান-১০৩ জাতটির জীবনকাল ১২৫ থেকে ১৩০ দিন, এতে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২১ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
বিনাধান-২২ ধান কর্তনের পর একই জমিতে বোরো ধানের পূর্বে সরিষা বা অন্যান্য রবি ফসল চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়, যা কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।
মাঠ দিবসের শেষ পর্যায়ে কৃষকরা মাঠে উৎপাদিত বিনাধান-২২ ও ব্রি-ধান-১০৩ প্রদর্শন করেন। উপস্থিত কৃষকরা জানান, ‘এই ধান জাতগুলোর ফলন প্রচলিত জাতের তুলনায় ভালো এবং রোগবালাই কম।’
স্থানীয় কৃষক মো. দেলোয়ার হোসেন লিটন বলেন, ‘আমি বিনা-১০৩ ও বিনা-২২ উভয় জাতের ধান চাষ করেছি। ফলন খুবই ভালো হয়েছে এবং ধানের গুণগত মানও উন্নত।’
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ‘বিনা উদ্ভাবিত এই ধান জাতগুলো দ্রুত সারাদেশে সম্প্রসারিত হলে দেশে খাদ্য উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হবেন।’
রিপোর্টার্স২৪/ প্রীতিলতা